ঢাকা   ০২:৩০:২৬ পিএম, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘অপরাধী ছাড় পাবে না, নিরপরাধ কেউ হয়রানি হবে না’: কটিয়াদীতে শফিকুল হত্যায় ওসির হুঁশিয়ারি

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, July 9, 2026,
  • 97 Time View
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

এ.এস.এম. হামিদ হাসান:

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী এলাকায় চাঞ্চল্যকর শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে কটিয়াদী মডেল থানার পুলিশ। ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, চাঞ্চল্যকর শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রধান আসামিকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ। এছাড়াও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে সে বিষয়েও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে পুলিশ। এ সময় সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ওসি।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টায় কটিয়াদী মডেল থানা কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, লোহাজুরী এলাকায় শফিকুল ইসলামের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুলিশ ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে বাবুল মিয়া (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে উল্লেখ করে ওসি বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত বাবুল মিয়ার দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মূল অস্ত্রসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এই ক্লুগুলো মামলার সুষ্ঠু তদন্তে বড় ভূমিকা রাখবে।”

হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম একযোগে কাজ করছে বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

ওসি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই আইনের বাইরে রাখা হবে না। তদন্তে যার বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে।”

তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে যেন হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা না হয়, সেদিকেও পুলিশের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে। কোনো নিরীহ মানুষ যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোথাও এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান ওসি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি জনগণকে তদন্তকাজে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী পরিবারকে কোনো ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ আসেনি। তবে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। এ ধরনের কোনো অভিযোগ বা হুমকি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করেন।

লোহাজুরী এলাকার এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র দাবি বিরাজ করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি