ঢাকা   ১২:০৪:৫৭ পিএম, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় জখমের ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি, ওসির বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, July 12, 2026,
  • 101 Time View
  • ৭ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

সোহেল খান দূর্জয়:

নেত্রকোনার বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দামের বিরুদ্ধে মারধরে আহত এক নারীর লিখিত অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি এবং বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ওসি প্রথমে অভিযোগ গ্রহণ না করে সালিশের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার পরামর্শ দেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও দুই পক্ষকে থানায় ডেকে আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি। শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাতে বারহাট্টা থানায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগীরা হলেন উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের আব্দুল্লাহর স্ত্রী মুক্তা বেগম (৪৫) এবং তাঁর মেয়ে আঁখি আক্তার (২৮)। অভিযুক্ত বাদশা মিয়া (৩৬) পাশ্ববর্তী ধনপুর গ্রামের মৃত নুর হাকিমের ছেলে। তিনি পেশায় মৎস্য ব্যবসায়ী।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে বারহাট্টা উপজেলার ধনপুর গ্রামে আঁখি আক্তারের স্বামী বাদশা মিয়া শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তাঁকে মারধর করেন। এ সময় মেয়েকে রক্ষা করতে গেলে বাদশা লাঠি দিয়ে শাশুড়ি মুক্তা বেগমের পিঠে আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত হন। এছাড়া তাঁকে কিল-ঘুষি মেরে ও টেনে-হিঁচড়ে আহত করা হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে মা-মেয়েকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

রাত প্রায় ১০টার দিকে তাঁরা বারহাট্টা থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে সেখানে অভিযুক্ত বাদশা মিয়াকে আগেই উপস্থিত দেখতে পান বলে দাবি করেন। মুক্তা বেগম বলেন, অভিযোগ দিতে চাইলে ওসি প্রথমে তা গ্রহণ করেননি। তিনি আগামী বুধবার উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলেন। পরে আত্মীয়স্বজনের পরামর্শে ফিরে গিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিলে এবং পরিচিত এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হলে ওসি অভিযোগ গ্রহণ করেন। তবে অভিযোগ নেওয়ার পরও তিনি বলেন, বুধবার দুই পক্ষকে ডেকে আলোচনা করা হবে, এরপর প্রয়োজন হলে মামলা হবে।

মুক্তা বেগম আরও বলেন, থানায় গিয়ে দেখি অভিযুক্ত বাদশা আগেই সেখানে উপস্থিত। পুলিশের সঙ্গে তার বেশ সখ্য রয়েছে। তাই হয়তো আমাদের অভিযোগ নিতে অনীহা দেখানো হয়েছে। এত বড় জখমের পরও অভিযোগ গ্রহণে গড়িমসি কেন, তা বুঝতে পারছি না। আমরা সালিশ চাই না। থানা তো সালিশের জায়গা নয়।

একই অভিযোগ করেন আঁখি আক্তার। তিনি বলেন, অভিযোগ দেওয়ার পরও ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আমরা শঙ্কিত। কারণ অভিযুক্তের সঙ্গে পুলিশের ঘনিষ্ঠতা লক্ষ্য করেছি। আমাদের মারধর করে সে আগেই থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলছিল। ওসি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আলোচনার কথা বলছিলেন। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ২০২৩ সালে আঁখি আক্তারের সঙ্গে বাদশা মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন শুরু হয়। কয়েক লাখ টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এ ঘটনায় গত বছরের নভেম্বরে আঁখি আক্তার আদালতে একটি মামলা করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। তাঁদের এক বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি বাদশা মিয়া গোপনে আরেকটি বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে দাম্পত্য বিরোধ আরও তীব্র হয় এবং আঁখি আক্তার সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। শনিবার দুপুরে সেখানে গিয়ে বাদশা তাঁকে মারধর করেন। মেয়েকে রক্ষা করতে গেলে মুক্তা বেগমকেও লাঠি দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বাদশা মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অভিযোগের বিষয়ে বারহাট্টা থানার ওসি চম্পক দাম বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এটি পারিবারিক বিষয় হওয়ায় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে বলা হয়েছে। তবে আহত মুক্তা বেগমের অভিযোগ প্রথমে গ্রহণ না করার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম বলেন, হামলায় আহত হওয়ার ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণ করা পুলিশের বাধ্যবাধকতা। এ ধরনের ঘটনায় থানায় সালিশের কোনো বিধান নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি