ঢাকা   ১২:০৫:৫৫ পিএম, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কটিয়াদীতে জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত চান্দপুর হাজীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, July 12, 2026,
  • 128 Time View
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

এ.এস.এম. হামিদ হাসান:

গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের ১০১ নম্বর চান্দপুর হাজীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এ জলাবদ্ধতার ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পাঠদান ও পাঠগ্রহণে বাধ্য হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির মূল ভবন ও সামনের রাস্তা উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও আশপাশের এলাকা পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতা এতটাই প্রকট যে, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে বিদ্যালয়ে প্রবেশের কোনো উপায় নেই। বাধ্য হয়ে সবাইকে হাঁটুসমান পানি ভেঙে বিদ্যালয় ভবনে প্রবেশ করতে হচ্ছে।

এদিকে নোংরা পানি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে স্থানীয় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। বেশ কয়েকজন অভিভাবক জানান, বৃষ্টি থামার পর মাঠের পানি সরে গেলেই তারা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাবেন। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাট করে সামনের রাস্তার সমপর্যায়ে উন্নীত করা হোক। তাহলে বৃষ্টি হলেও আর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকবে। এ বিষয়ে তারা শিক্ষা বিভাগের জরুরি সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

১৯৭৬ সালে মানিকখালী হাজীবাড়ির আলহাজ আজিজুল হকের বড় ছেলে আলহাজ ফজলুল হক মুকুল মিয়া বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রয়োজনীয় জমি দান করেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে (২০১৮ সাল থেকে) প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে কোনোমতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

মোট ২৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বিদ্যালয়টিতে মাত্র ৪ জন সহকারী শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি ৪০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা (১:৪০ অনুপাত)। সে হিসাবে বিদ্যালয়টিতে অন্তত ৬ জন শিক্ষক প্রয়োজন। বর্তমানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১:৬২.৫, যা সরকারি নির্ধারিত মানের তুলনায় অনেক বেশি।

সরেজমিনে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অফিসিয়াল কাজে উপজেলা সদরে গেলে তখন মাত্র ৩ জন শিক্ষকের পক্ষে ২৫০ জন শিক্ষার্থীকে সামলানো এবং পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ নাজনিন সুলতানা মুন্নি এই প্রতিবেদককে বলেন, “জরুরি ভিত্তিতে একজন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। শত কষ্টের মাঝেও আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি।”

সংশ্লিষ্ট এলাকার একাধিক অভিভাবকও বিদ্যালয়টিতে দ্রুত প্রধান শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুধু এই বিদ্যালয়ই নয়, বর্ষা মৌসুমে উপজেলার যেসব বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, সেগুলোর সমস্যা সমাধানে শিক্ষা বিভাগ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও শিক্ষা অফিস নিশ্চিত করেছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি