ঢাকা   ০২:৪০:৫৪ এএম, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর জীবনের ঝুঁকি! নওগাঁর রাতোয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যেন এক ‘মরণফাঁদ’

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, July 14, 2026,
  • 99 Time View
  • ৫ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

শাহ রফিকুজ্জামান মিথুন:

নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার রাতোয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিদ্যালয়ের ভবনের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল, দেয়াল ও কাঠামোর নাজুক অবস্থা এবং দীর্ঘদিনের অবহেলায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান করছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। একই সঙ্গে শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীও নিরাপত্তাহীন পরিবেশে শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির ভবন সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ক্রমেই বড় হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ভবনের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

একসময় এ বিদ্যালয় থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। মানুষ গড়ার এই বিদ্যাপীঠ আজ নিজেই অবহেলা ও অনিশ্চয়তার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যালয়ের বর্তমান বেহাল চিত্র দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের ভাষায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন করুণ অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

অভিভাবকদের দাবি, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিদিন উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হয়। তারা চান, দুর্ঘটনা ঘটার পর নয়, বরং তার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। কারণ একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা মুহূর্তেই বহু পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দিতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন, বিদ্যালয়টির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসেনি? যদি এসে থাকে, তাহলে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ এখনো শুরু হয়নি কেন? বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তাই রাতোয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে দ্রুত পরিপূর্ণ সংস্কার অথবা প্রয়োজন হলে নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, আর কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষা নয়—অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে লেখাপড়া করতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি