ঢাকা   ০৭:৪২:০৫ এএম, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাঙ্গুড়ায় ৭ শিক্ষকের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, July 14, 2026,
  • 90 Time View
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

মো. আরিফুল ইসলাম:

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষকের নিয়োগে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগারে বেতন-ভাতা বাবদ উত্তোলন করা ১ কোটি ১৭ লাখ ৫ হাজার ৯১৭ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের একটি কপি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার কৃষিনির্ভর অষ্টমনিষা গ্রামের নামে ১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে ২০২০ সালের ১২ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক রাকিবুল হাসান বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে তিনি ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করেন। সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে এলে সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ওঠা এমন গুরুতর অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৩ জন এমপিওভুক্ত। এর মধ্যে সাতজনের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক মো. আনছার আলী নিয়োগের সময় প্রয়োজনীয় ১২ বছরের অভিজ্ঞতা অর্জন করেননি। সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আয়নুল হক যোগদানের সময় পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র দাখিল করেননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সহকারী শিক্ষক স্বপ্না রানী পালের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ছিল না বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষক রোখসানা খাতুনের কৃষি ডিপ্লোমা সনদ না থাকায় তাঁর আবেদন বাতিলযোগ্য ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. রেজাউল করিমের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়োগ নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং বিএড ডিগ্রির ভিত্তিতে উচ্চতর স্কেল পাওয়ার যোগ্যতাও নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শরীরচর্চা শিক্ষক মুহাম্মদ আলীর সনদ গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠানের নয় এবং ইসলাম ধর্ম বিষয়ের শিক্ষক মো. হামিদুর রহমান পরিদর্শনের সময় প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত সনদ উপস্থাপন করতে পারেননি বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এসব কারণে সাতজন শিক্ষকের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করা ১ কোটি ১৭ লাখ ৫ হাজার ৯১৭ টাকা ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অনেকেই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে প্রধান শিক্ষক মো. আনছার আলী, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আয়নুল হক, সহকারী শিক্ষক স্বপ্না রানী পাল এবং ধর্ম বিষয়ক শিক্ষক মো. হামিদুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদনের জবাবও দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় নেবে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বলেন, এ-সংক্রান্ত কোনো চিঠি এখনো তাঁর দপ্তরে পৌঁছায়নি। চিঠি পাওয়া গেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি