ঢাকা   ০৭:০৩:১৫ এএম, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, July 16, 2026,
  • 91 Time View
  • ৫ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ:

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় প্রবাসীর স্ত্রী শামিমা খাতুনসহ একই পরিবারের ৪ জনকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মাঝপাড়া গোরস্থান এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এতে আহতরা হলেন, সৌদি প্রবাসী আব্দুর রাকিবের স্ত্রী শামিমা খাতুন, বাবা আব্দুস সামাদ, মা খাইরুন নেসা, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জলি বেগম।

এ ঘটনায় আহত জলি বেগম বাদি হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের স্বজন সূত্র জানা যায়, মাঝপাড়া এলাকায় বাপ্পি নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। গত রবিবার বিকেলে শামিমা খাতুন তাকে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করেন এবং এর প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক ব্যবসায়ী বাপ্পির নেতৃত্বে নুরুজ্জামান, মিম ও নাসিমা বেগম দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শামিমার ওপর হামলা চালায়।

হামলার সময় শামিমার চিৎকার শুনে তাকে বাঁচাতে তার বাবা, মা ও ভাইয়ের স্ত্রী এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাদেরও এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহত ৪ জনকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে তাদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

রাত ৮ টার দিকে আবারও বাপ্পির নেতৃত্বে নুরুজ্জামান, মিম ও নাসিমা বেগমসহ ৮-১০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রবাসীর স্ত্রী শামিমা খাতুনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির দরজা-আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ হামলার শিকার পরিবারের।

প্রবাসীর স্ত্রী আহত শামিমা খাতুন বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা করে আসছে। প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করতে নিষেধ করায় আমার উপর হামলা করে। এমনকি মারধরের সময়কার ভিডিও ধারন করে মোবাইল বুকের মধ্যে লুকিয়ে রাখলেও জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় এবং শ্লীলতাহানি করে। মারধরের পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলেও লোকজন নিয়ে মারার জন্য জরুরি বিভাগে যায় তারা। পরে পুলিশ হাসপাতালে উপস্থিত হলে তারা চলে যায় এবং আমাদের চিকিৎসা হয়। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।

এনিয়ে কথা বলতে বাপ্পি ও নুরুজ্জামানের মোবাইল ফোনে কল দিলে তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ একরামুল হোসাইন জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে দুইপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে হামলা, মারধর ও ভাংচুরের ঘটনাটি কি নিয়ে তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি