ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা বাস্তবায়ন করার মতো আইনি এখতিয়ার তার প্রশাসনের নেই বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। এ বিষয়ে তিনি মার্কিন কেন্দ্রীয় (ফেডারেল) সরকারকে এগিয়ে আসার ও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় মামদানি বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখানে এলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতার পরোয়ানা কার্যকর করার কোনো সুযোগ নিউইয়র্ক সিটির রয়েছে কিনা, তা আমাদের প্রশাসন প্রচলিত আইনের আলোকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি এখন স্পষ্ট যে এই পরোয়ানা কার্যকর করার মতো স্বাধীন আইনি এখতিয়ার আমাদের নেই। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের সেই ক্ষমতা রয়েছে; আমি তাদের আইসিসিতে যোগ দিয়ে এই পরোয়ানা বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।’
নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৪ সালে জানিয়েছিল, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের প্রাণঘাতী হামলার পর গাজায় পরিচালিত ইসরাইলি সামরিক অভিযানে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য নেতানিয়াহু দায়ী বলে বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে।
অন্যদিকে, আগামী সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেতানিয়াহু যোগ দিলে তাকে কোনো গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হবে না বলে সোমবার (২০ জুলাই) স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ভিডিও বার্তায় মামদানি আরও বলেন, ‘চোখ, হৃদয় ও বিবেক আছে এমন যে কারো উচিত তার (নেতানিয়াহু) ঘটানো ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ অনুধাবন করা এবং এটি বোঝা যে তার স্থান বিচারালয়ে—যা আমি আগেও বলে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আইসিসির অভিযুক্ত অন্য যেকোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে আমি যেমনটা মনে করি, ঠিক তেমনই নেতানিয়াহুকেও গ্রেফতার করা এবং তার অপরাধের বিচার হওয়া উচিত বলে আইসিসির সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমি একমত।’
তবে নেতানিয়াহুর দপ্তর মামদানির এই বক্তব্য ও অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) একটি ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ (প্রহসনের আদালত) হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
সূত্র: আল আরাবিয়া