টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নয়নী রাজবংশী নামে এক নারী নির্মাণ শ্রমিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর খুনি ওই নারীকে ধর্ষণ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় মির্জাপুর থানা পুলিশ রবিউল (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে। শুক্রবার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে রবিউলকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রবিউল।
মির্জাপুর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল মাজিস্ট্রেট সাগর তালুকদার তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার এসআই ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
নয়নী রাজবংশী মির্জাপুর পৌর এলাকার আন্ধরা গ্রামের মরণ রাজবংশীর স্ত্রী।
পুলিশ সূত্র জানায়, জানু নামের রাজমিস্ত্রির এক সর্দারের সঙ্গে নয়নী রাজবংশীর পরকীয়া চলছিল। একদিন নয়নী এবং জানুর দৈহিক মিলনের বিষয়টি রবিউল দেখে ফেলেন। রবিউল ও নয়নী রাজবংশী একসঙ্গে ঢালাই কাজে হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। এর মধ্যে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে উঠে।
রবিউল মাঝে মধ্যে নয়নী রাজবংশীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। বিষয়টি রবিউলের স্ত্রী মিম ভালোভাবে না নিয়ে সন্দেহ করতে থাকেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা লেগেই থাকত। গত কুরবানির ঈদের আগের দিন রবিউলের স্ত্রী বাবার বাড়ি উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বুড়িহাটী গ্রামে চলে যান। এরপর তিনি আর স্বামীর বাড়িতে ফেরেননি। এই ক্ষোভে এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক রবিউল নয়নী রাজবংশীর ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং সুযোগ খুঁজতে থাকেন।
গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ১১টার দিকে রবিউল নয়নীর বাড়িতে গিয়ে ঘুম থেকে ডেকে তুলে তাকে নিয়ে পুষ্টকামুরী দক্ষিণপাড়ায় কাদের মিয়ার বাড়িতে নিয়ে দৈহিক মিলনের চেষ্টা চালায়। নয়নী এতে বাধা দিলে রবিউল তাকে বলেন ‘আমার উস্তাদকে তুই দেস, আমাকে কেন দিবি না’ এই বলে বুকের ওপর চড়ে বসে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ধর্ষণ করে।
এর কিছুক্ষণ পর ওই বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লৌহজং নদীর পাড়ে ঝোপের মধ্যে লাশ ফেলে দেয় বলে স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেন রবিউল।
মঙ্গলবার রাতে এবং পর দিন বুধবার নয়নী বাড়িতে না ফেরায় তার মেয়ে টুম্পা রাজবংশী (৩০) রবিউলকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত দেড়টার দিকে নয়নী রাজবংশীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
মির্জাপুর থানার এসআই রাশেদ ফজল ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার এসআই ইসলাম জানান, রবিউল নয়নীকে হত্যার পর ধর্ষণের কথা আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন।