সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়কের ২৪১ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়কের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি মেরামতের জন্য মোট ২৪৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকার বরাদ্দ চেয়ে সড়ক ভবনের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
সওজ সূত্র জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের জরুরি মেরামতের জন্য ৩৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং স্থায়ী পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি মেরামতের জন্য ২১০ কোটি ২৯ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে বলে প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম সড়ক জোন থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য ও প্রস্তাবনা সড়ক ভবনে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল হালিমের স্বাক্ষরিত বন্যাজনিত ক্ষয়ক্ষতির সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের আওতাধীন মোট ২৪১ দশমিক ৩১ কিলোমিটার জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ৩২ দশমিক ২৩ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ৩৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার এবং জেলা মহাসড়ক ১৭৬ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই জেলা সড়ক, যার ওপর স্থানীয় জনসাধারণের যোগাযোগ ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।
সড়ক বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বান্দরবান সড়ক বিভাগ। সেখানে ১০০ কিলোমিটার সড়ক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ, যেখানে ৬৫ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগে ৫০ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার, কক্সবাজারে ১৫ দশমিক ১৪ কিলোমিটার, খাগড়াছড়িতে ১৭ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার এবং রাঙামাটিতে ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সওজের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, বরাদ্দ পাওয়ার আগেই গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় জরুরি মেরামত কাজ চলছে। তবে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ অনুমোদনের বিকল্প নেই। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর পূর্ণাঙ্গ সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।