ঢাকা   ১২:০৭:২২ এএম, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় তিন সন্তানের জননীকে নিয়ে পালানোর অভিযোগে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, July 26, 2026,
  • 113 Time View
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

সোহেল খান দূর্জয়:

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে তিন সন্তানের জননী এক নারীকে নিয়ে পালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে আজব আলী (৩২) নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী সাজেদ মিয়া বাদী হয়ে আজব আলীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। মামলায় স্ত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ৬ জুলাই সাজেদ মিয়া আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্ত আজব আলী উপজেলার বড়কাশিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি একই ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার আগের সংসারে স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। অভিযোগকারী সাজেদ মিয়া উপজেলার বড়তলী-বানিয়াহারী ইউনিয়নের বানিয়াজোড়া গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৩ বছর আগে সাজেদ মিয়ার সঙ্গে রাবিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ তিন সন্তান রয়েছে। ছোট মেয়ের বয়স ১১ মাস। বাবার বাড়ি মধুপুর গ্রামে বেড়াতে এলে প্রতিবেশী আজব আলী রাবিয়াকে কুপ্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করতেন। এতে তিনি রাজি হননি। অভিযোগে বলা হয়, বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে গত ৪ জুলাই দিবাগত মধ্যরাতে পাটশলার বেড়া কেটে ঘরে ঢুকে রাবিয়াকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান আজব আলী। এ সময় বাধা দিলে রাবিয়ার বাবা বকুল মিয়াকে গলায় ছুরি ধরে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর থেকে রাবিয়াকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ৬ জুলাই আজব আলীর বিরুদ্ধে আদালতে লিখিত অভিযোগ করেন সাজেদ মিয়া। অভিযোগটি আমলে নিয়ে মোহনগঞ্জ থানার ওসিকে মামলা রেকর্ড এবং আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ভিকটিমকে উদ্ধারেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আজব আলী বলেন, রাবিয়াকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়নি। তিনি স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে এসেছেন। এর আগেও দুইবার তিনি তার সঙ্গে চলে এসেছিলেন, পরে পরিবারের সদস্যরা বুঝিয়ে নিয়ে যান। এবার তারা বিয়ে করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

রাবিয়া আক্তার বলেন, সন্তানদের রেখে আমি স্বেচ্ছায় আজব আলীর সঙ্গে চলে এসেছি। আমরা বিয়ে করেছি। অনেকে ফোন করে ফিরে যাওয়ার জন্য বলেছিল, কিন্তু আমি ফিরে যাব না বলে জানিয়েছি।

এদিকে আজব আলীর দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করে বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হবি মিয়া বলেন, পালিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সত্য। এ ঘটনার পর এলাকার ৫০-৬০ জন বাসিন্দা লিখিতভাবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন। বিষয়টি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হয়েছে। তার এমন কর্মকাণ্ডে আমরা বিব্রত।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, অভিযোগটি আমলে নিয়ে মোহনগঞ্জ থানার ওসিকে মামলা রেকর্ড এবং আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ভিকটিমকে উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজই আদেশটি মোহনগঞ্জ থানায় পৌঁছানোর কথা।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, “আদালতের নির্দেশনা এখনো আমার হাতে পৌঁছেনি। নির্দেশনা পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি