কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ‘ফাউন্ডার ফিয়েস্তা (উদ্যোক্তা মেলা)’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম মেলার উদ্বোধন করেন। পরে তিনি বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দিকনির্দেশনা দেন।
এ সময় উপাচার্য ছাড়াও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান, মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, মার্কেটিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ‘এন্ট্রাপ্রেনার ডেভেলপমেন্ট’ কোর্সের অংশ হিসেবে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পাঁচটি স্টল বসানো হয়। এসব স্টলে মাটির তৈরি সামগ্রী, খাবার, গহনা, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। আয়োজকদের তথ্যমতে, বিকেল ৪টা পর্যন্ত মেলা চলবে।
২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. তৌহিদুর রহমান সাকিব বলেন, ‘এন্ট্রাপ্রেনার ডেভেলপমেন্ট কোর্সের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এই কোর্স থেকে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, সেটিই আমরা মেলার মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। একজন বিবিএ শিক্ষার্থী ও ভবিষ্যৎ মার্কেটার হিসেবে তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব অভিজ্ঞতায় রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই আয়োজনের মাধ্যমে।’
আরেক শিক্ষার্থী তাহমিদ তাজওয়ার বলেন, ‘আমাদের স্টলে মূলত হ্যান্ডক্রাফট পণ্যের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এখানে সম্পূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি সুগন্ধি মোমবাতি, প্রাকৃতিক ফুলের সলিড পারফিউম এবং বিভিন্ন খাবার রয়েছে। এই উদ্যোক্তা মেলার মূল উদ্দেশ্য হলো নিজেদের একজন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা।’
মেলা পরিদর্শন শেষে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘বিজনেস স্টাডিজে পড়ার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আমরা শুধু চাকরি করব না, চাকরি দেব। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই আমাদের কাজ করে যেতে হবে। আজকের আয়োজনও শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে সামনে আসতে উৎসাহিত করবে। তারা এখানে দলগতভাবে কাজ করেছে। পাশাপাশি এককভাবেও যেন কিছু করতে পারে, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, ‘আজকের আয়োজনটি খুবই ভালো হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নতুন কিছু করার উদ্দীপনা পাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে। আমরা ‘স্টুডেন্ট অ্যাক্টিভিটিজ সেন্টার’ তৈরির চেষ্টা করছি, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিজনেস ফ্যাকাল্টির সিনিয়র শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি জায়গা তৈরি করতে পারেন, যেখানে বিভিন্ন উদ্ভাবনী পণ্য ও খাবার তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকবে, তাহলে শিক্ষার্থীরা আরও অনুপ্রাণিত হবে।’
প্লাস্টিকের ব্যবহার প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, ‘এখানে দেখতে পাচ্ছি শিক্ষার্থীরা প্যাকেজিংয়ের জন্য প্লাস্টিক ব্যবহার করছে। তবে আমরা নতুন ক্যাম্পাসে প্লাস্টিক পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার চিন্তা করছি। বিজনেস ফ্যাকাল্টি যদি উদ্যোগ নিয়ে এ ধরনের বড় উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করতে পারে, তাহলে আমি চেষ্টা করব প্রধানমন্ত্রীকে সেখানে নিয়ে আসতে।’