ঢাকা   ১০:২১:১০ পিএম, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় এক দিনের পাহাড়ি ঢলে সড়কের ৮ কোটি টাকার ক্ষতি

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, July 28, 2026,
  • 77 Time View
  • ৭ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

সোহেল খান দূর্জয়:

উজান থেকে নেমে আসা এক দিনের আকস্মিক পাহাড়ি ঢলেই নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় ১২ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে শুধু সড়ক খাতেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। একই ঢলে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আধাপাকা ভবনের অর্ধেক অংশ। পানি নেমে গেলেও বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় কয়েকটি এলাকায় এখনো যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯ জুলাই দিবাগত রাত ২টার দিকে উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে উপজেলার সীমান্তবর্তী পাঁচটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ২১ জুলাই থেকে পানি কমতে শুরু করে এবং পরদিন নদীর পানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি ঢলে উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে খারনৈ ইউনিয়নের শ্রীপুর, গজারমারি ও নলচাপড়া এলাকায় প্রায় ৩ কিলোমিটার পাকা সড়কে। এ ছাড়া নাজিরপুরের আনন্দপুর-দিলোরা এবং রংছাতির বরুয়াকোনা, খাসপাড়া ও পাঁচগাঁও এলাকার আরও প্রায় ২ কিলোমিটার পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়কের অনেক অংশে কার্পেটিং উঠে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ধসে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সড়কগুলো সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগমাধ্যম।

সরেজমিনে খারনৈ ইউনিয়নের গজারমারি ও শ্রীপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি স্থানে পাকা সড়ক ধসে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব স্থানে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা বিকল্প পথ ব্যবহার করে যাতায়াত করছেন। এতে দৈনন্দিন চলাচলের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনেও ভোগান্তি বাড়ছে।

গজারমারি এলাকার বাসিন্দা পাঞ্জর আলী বলেন, “গজারমারি ও শ্রীপুর এলাকার পাকা সড়কের বিভিন্ন অংশ পাহাড়ি ঢলে ধসে বড় আকারের গর্ত তৈরি হয়েছে। এখন পায়ে হেঁটে চলাচল করা গেলেও কোনো যানবাহন চলতে পারছে না। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এ ছাড়া এসব সড়ক প্রায়ই পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সরকারি অর্থের অপচয় রোধে পিচঢালাইয়ের পরিবর্তে আরসিসি সড়ক নির্মাণ করা প্রয়োজন।”

সড়কের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীতীরবর্তী গজারমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আধাপাকা ভবনের অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় ভাঙনে গভীর খাদ সৃষ্টি হয়েছে। ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে গভীর নলকূপ সচল না থাকায় শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সুপেয় পানি ব্যবহারে ভোগান্তিতে পড়েছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আশরাফ উদ্দিন বলেন, “ভবনের একটি অংশ নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় একটি শ্রেণির পাঠদান বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে। অন্য শ্রেণিগুলোর ক্লাস বিদ্যালয়েই চলছে। তবে বিদ্যুৎ না থাকায় নলকূপ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি হচ্ছে।”

কলমাকান্দা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলে উপজেলার প্রায় ৫ কিলোমিটার পাকা ও ৭ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে সড়ক খাতে প্রায় ৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে ও যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে স্থানীয়ভাবে জরুরি ভিত্তিতে সীমিত পরিসরে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি