গ্রিস শাখা বিএনপির আহ্বায়ক ফারুক মিয়া ও সদস্যসচিব আশরাফ উদ্দিন ঠাকুর (টিপু)-এর বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ।
জানা গেছে, গ্রিস শাখা বিএনপির ৭১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির মধ্যে ৫১ জন সদস্য, পাঁচজন নির্বাচন কমিশনার এবং সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ মোট ৬৫ জন স্বাক্ষর করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা ও রাশিয়া অঞ্চলের সাংগঠনিক সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন খোকনের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।
লিখিত আবেদনে বর্তমান আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের বিরুদ্ধে অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কার্যকলাপ এবং পদ-পদবি বাণিজ্যের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব কারণে দীর্ঘদিন ধরে গ্রিস শাখা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আহ্বায়ক ফারুক মিয়া ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থতা ও শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
আবেদনকারীদের দাবি, ২০২২ সালে অনুমোদিত ৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি প্রত্যাশিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। ফলে গ্রিস শাখা বিএনপিকে পুনরুজ্জীবিত করা, দলীয় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল করতে বর্তমান আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আবেদনকারীরা আশা প্রকাশ করেছেন, দলীয় নেতৃত্ব অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এবং গ্রিস শাখা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গ্রিস শাখা বিএনপির আহ্বায়ক ফারুক মিয়া ও সদস্যসচিব আশরাফ উদ্দিন ঠাকুর (টিপু)-এর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।