• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
রাজনৈতিক ছায়া নাকি প্রশাসনিক জটিলতা? তালজাঙ্গা আর সি রায় উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নয়ন ও শিক্ষার অগ্রযাত্রা থমকে যাওয়ার অভিযোগ নদীপথে ইয়াবা পাচারকালে ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক উপমহাদেশের জনপ্রিয়, সুপরিচিত কবি ও কথাসাহিত্যিক মাধুরী ব্যানার্জীর লেখা অণুগল্প: “শ্রাবণ মেঘের ঘনঘটা” নিরাপদ সীমান্তের দাবিতে রঙ্গিখালী দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের একাত্মতা নেত্রকোনায় ভুয়া কাগজপত্রে জমি দলিল করতে গিয়ে ধরা দলিল লেখক দেবহাটায় দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ বরুড়ার ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক চলনবিলে নৌকা বাইচ–২০২৬: স্থান পরিদর্শনে নাটোরের ডিসি গাইবান্ধায় অনলাইন ক্যাসিনো জুয়ার দুই এজেন্ট গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২ স্মার্টফোন আহত সাংবাদিক জামালকে দেখতে হাসপাতালে মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ

নেত্রকোনায় ভুয়া কাগজপত্রে জমি দলিল করতে গিয়ে ধরা দলিল লেখক

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

সোহেল খান দূর্জয়:

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে জমির দলিল নিবন্ধনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মো. রহিছ মিয়া (৫৫) নামে এক দলিল লেখকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে দলিল-সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে মদন উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ২৮ জুন তাকে এই শোকজ করা হয়। তবে সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হয়েছে। অভিযুক্ত মো. রহিছ মিয়া মদন পৌরশহরের বাসিন্দা। তাঁর দলিল লেখক সনদ নম্বর-৪৪৭।

সংশ্লিষ্ট লোকজন ও সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুন রহিছ মিয়া ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে একটি জমির দলিল প্রস্তুত করে নিবন্ধনের জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে উপস্থাপন করেন। দলিলটি যাচাই-বাছাইয়ের সময় নামজারি ও বায়না দলিলের নকল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দাখিল করা বায়না দলিলের নকলটি ভুয়া ও জাল। সেই সঙ্গে পূর্ববর্তী দলিল বা উৎস দলিলটিও ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়।

এ বিষয়ে দলিল লেখক রহিছ মিয়া ও সংশ্লিষ্ট পক্ষদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জুন দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। তাকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়।

পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দলিল মুসাবিদা, প্রস্তুত, লিখন, নিবন্ধনে সহায়তা, দলিলের নকল বা তথ্য সংগ্রহ এবং মূল দলিল সরবরাহসহ সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, নোটিশ পাওয়ার পরও রহিছ মিয়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে তাঁর চেম্বারে বসে সহকারীদের মাধ্যমে আগের মতোই দলিল-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার অভিযুক্ত দলিল লেখক রহিছ মিয়া বলেন, ‘জমির মালিকপক্ষ আমাকে যে কাগজপত্র দিয়েছে, সেই অনুযায়ী দলিল লিখে জমা দিয়েছিলাম। সেগুলো জাল কি না, তা জানতে পারিনি। এক্ষেত্রে আমার কোনো ভুল নেই।’

তিনি বলেন, ‘যথাসময়েই শোকজের জবাব দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী দলিল-সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছি।’

উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান বলেন, দলিল নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন দলিল লেখক রহিছ মিয়া। কাগজপত্র দেখে সন্দেহ হলে জেলা মহাফেজখানায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, জমা দেওয়া উৎস দলিলটি জাল। এক্ষেত্রে বায়না ও নামজারির কাগজপত্রও জাল পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট এসব কাগজপত্র যাচাই করে দলিল প্রস্তুত করার দায়িত্ব দলিল লেখকের। তাই তাকে শোকজ করা হয়েছে। রহিছ মিয়া ইতিমধ্যে শোকজের জবাব দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া জবাবটি জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখনো তাঁর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। তিনিই (জেলা রেজিস্ট্রার) এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।

সাব-রেজিস্ট্রার আরও বলেন, কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত রহিছ মিয়াকে দলিল-সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন