হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পৃথকভাবে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মো. নজরুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্যসচিব মো. মাসুম আলী, মুখ্য ছাত্র প্রতিনিধি মুত্তাসিন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সদস্য সাব্বির আহমেদ, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জীবনসহ দলটির অন্যান্য নেতা-কর্মী।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ এবং মতপ্রকাশের অধিকার সংবিধানস্বীকৃত। কিন্তু সম্প্রতি হবিগঞ্জে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর সংঘটিত হামলা শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ওপর আঘাত নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসনের ওপরও গুরুতর আঘাত।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সচেতন ও শান্তিকামী নাগরিকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্মারকলিপিতে চার দফা দাবি জানানো হয়।
দাবিগুলো হলো—হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনা; ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; আহত নেতা-কর্মীদের সুচিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সব নাগরিকের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার সবার রয়েছে। কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে।
এনসিপি নেতারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে হবিগঞ্জের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।