কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন—১নং হোয়াইক্যং, ২নং হ্নীলা, ৩নং বাহারছড়া, ৪নং টেকনাফ সদর ও ৫নং সাবরাং ইউনিয়ন—বিভাজনের উদ্যোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি নেতা মুরাদ হোসেন চৌধুরী।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, টেকনাফের ইউনিয়নগুলোকে বিভাজনের মাধ্যমে প্রশাসনিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হলে সীমান্তবর্তী এ জনপদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, মানবপাচারকারী ও অপহরণকারীদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মুরাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, টেকনাফ এমনিতেই মাদক, মানবপাচার, অপহরণ ও সীমান্ত অপরাধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। এ অবস্থায় ইউনিয়ন বিভাজনের আগে স্থানীয় মানুষের মতামত, ভৌগোলিক বাস্তবতা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
এদিকে, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সাম্প্রতিক ঘটনায় নিরপরাধ মানুষকে হয়রানিমূলক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগেও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, কোনো ঘটনার প্রকৃত তদন্ত ছাড়া নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে কাউকে হয়রানি করা হলে এর বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে।
মুরাদ হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, ‘হাইব্রিড’ নেতাদের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করার অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এর বিরুদ্ধে কঠোরভাবে প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, টেকনাফের ইউনিয়ন বিভাজনের যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
একই সঙ্গে হোয়াইক্যংয়ের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান বিএনপি নেতা মুরাদ হোসেন চৌধুরী।