জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানে দুই দলের নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সমালোচনা করেন।
রাজধানীর নয়া পল্টনের ভাষানী মিলনায়তনে জিয়া শিশু-কিশোর মেলার এক অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদার অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি দাবি করেন, দেশি-বিদেশি একটি মহল এ বিষয়ে ষড়যন্ত্র করছে এবং এনসিপির কয়েকজন নেতার বক্তব্য সেই প্রচেষ্টাকে উসকে দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে যশোরে জেলা যুবদল আয়োজিত এক সমাবেশে যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না বর্ষীয়ান নেতাদের নিয়ে কটূক্তির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থী বক্তব্য জনগণ মেনে নেবে না এবং এ ধরনের আচরণের জবাব জনগণই দেবে।
এদিকে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটে (ডিআরইউ) এক আলোচনা সভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশে আবারও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর চাপ বাড়ছে। তিনি জাতীয় ঐক্য, সংস্কার, বিচার নিশ্চিতকরণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
একই দিন রাজধানীর এফডিসিতে এক বিতর্ক প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার সমালোচনা করেন। তিনি এটিকে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বলে মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন দলের অবস্থান ও বক্তব্য সামনে আসায় জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংযত ভাষা ও পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় রাখার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করছেন।