কুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে ২৫৬ কেজি গাঁজা ও বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চালক পালিয়ে যান।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর এলাকার ইসাখাঁ সিএনজি পাম্পসংলগ্ন স্থানে এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম পলাশের নেতৃত্বে এসআই রবিউল ইসলাম, এসআই কাওসার হোসেনসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় কালো রঙের একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে কালো প্লাস্টিকের প্যাকেটে মোড়ানো ২৫৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া কালো কাগজে মোড়ানো ভারতীয় ফেয়ারডিলের ১ হাজার ৫৭৫ বোতল এবং বাদামি প্লাস্টিকের প্যাকেটে মোড়ানো ৪৮টি প্যাকেট থেকে ভারতীয় এস্কাফের ১ হাজার ২০০ বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-১৩১৫।
দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক শামসুল আলম জানান, পুলিশের অভিযান টের পেয়ে মাইক্রোবাসের চালক গাড়ি রেখে পালিয়ে যান। পরে গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘চালককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে মাদকের বড় এই চালানের সঙ্গে কারা জড়িত, কোথা থেকে মাদকগুলো আনা হয়েছে এবং কোথায় নেওয়া হচ্ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন দাউদকান্দির সহকারী পুলিশ সুপার খলিলুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।পুলিশের ধারণা, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পলাতক চালক ও চালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মহাসড়ক ব্যবহার করে এত বড় মাদকের চালান পরিবহনের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।