১৫ আগস্ট ঘিরে যশোরে হাই অ্যালার্ট, ছয়টি পয়েন্টে চলছে তল্লাশি
নিজস্ব সংবাদ দাতা
/ ১৬
বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় :
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
শেয়ার
যশোর জেলা প্রতিনিধি:
১৫ আগস্ট ঘিরে যশোরে অলিখিত হাই অ্যালার্ট জারি করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। এ কারণে জেলা জুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সম্ভাব্য নাশকতা, বিশৃঙ্খলা কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে টানা তিন দিন ধরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, প্রবেশপথ ও জনসমাগমস্থলে বসানো হয়েছে একাধিক চেকপোস্ট। মাঠে রয়েছে জেলা পুলিশের আটটি টিমের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা। এর আগে ১২ আগস্ট শহরে সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধে বিশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। ১৩ আগস্ট শুরু হয় নিবিড় তল্লাশি অভিযান এবং ১৪ আগস্ট শুক্রবার দিবাগত রাতে শহরের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যানবাহন, মোটরসাইকেল ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ব্যাপকভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি তাদের নিয়মিত অভিযানের অংশ।
শুক্রবার রাতে শহরের মণিহার, ধর্মতলা, দড়াটানা, ঈদগাহ মোড়, নিউমার্কেট ও হাইকোর্ট মোড়সহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ যানবাহন থামিয়ে চালক ও আরোহীদের পরিচয় এবং কাগজপত্র যাচাই করেছে। বিশেষভাবে রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল শনাক্ত করে সেগুলো আটক ও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অস্ত্র, মাদক বা অন্য কোনো অবৈধ সামগ্রী বহন করা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, শহরের বকুলতলা জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের উসকানিমূলক বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ না থাকে। আগামী ১৬ আগস্ট পর্যন্ত এ অভিযান চলবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
অভিযান বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, পুলিশের এমন তৎপরতা আগস্টকে কেন্দ্র করে কোনো এককালীন অভিযান নয়; জেলা পুলিশের নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা উন্নতির কার্যক্রমের একটি অংশ। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত চেকপোস্ট, টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল ব্যবহার করে অপরাধ, অস্ত্র ও মাদক পরিবহনের ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। কেউ যাতে নাশকতা, সহিংসতা বা জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতো কোনো কর্মকাণ্ড ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।