পরিবেশ রক্ষায় পাখি বনের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদের প্রকৃতিতে এমনও অনেক বিস্ময়কর পাখি আছে, যারা খুব সহজেই কঠিন কাজগুলো করে। বলছিলাম কাঠঠোকরা পাখির কথা। এরা মিনিটে একশবারেরও বেশি ঠোকরাতে পারে। আর দিনে প্রায় আট থেকে দশ হাজারেরও বেশি গাছ ঠোকরায়। তবে সর্বশক্তি দিয়ে কাঠ ঠোকরালেও এদের মস্তিষ্কে কোনো ক্ষতি হয় না। ক্ষতি না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এদের জিহ্বা। এদের জিহ্বা অবিশ্বাস্য রকমের লম্বা হয়। কখনো কখনো ঠোঁটের প্রায় দ্বিগুণ।
কাঠঠোকরা গাছের ছাল ও কাণ্ডের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ক্ষতিকর পোকা এবং লার্ভা খেয়ে বেঁচে থাকে। এরা বোরিং বিটল ও উইপোকার মতো কীটপতঙ্গ ধ্বংস করে। ফলে গাছগুলো পোকার আক্রমণ থেকে মুক্তি পায় এবং সুস্থ থাকে। এতে গাছকে দীর্ঘায়ু হতে সাহায্য করে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, কাঠঠোকরা পাখির জিহ্বা মস্তিষ্কের পেছনের দিকে পেঁচানো থাকে। মাথার পেছন ঘুরে আবার তা সামনে চলে আসে। মূলত এই জিহ্বাই কাঠঠোকরা পাখির মাথায় সিটবেল্টের মতো কাজ করে। অর্থাৎ, যখন কাঠঠোকরা পাখি গাছে আঘাত করে, তখন তাদের মাথায় বিপরীত প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। সেই প্রতিক্রিয়া কাঠঠোকরার জিহ্বা শোষণ করে নেয়। ঠোকরানোর সময় তার মস্তিষ্কের ওপর চাপ কমিয়ে দেয়।
কাঠঠোকরা যখন কাঠ খোঁচায়, তখন গাছের ভেতরে ছত্রাক বা পচনশীল উপাদান প্রবেশে পরোক্ষভাবে সাহায্য করে। এতে মৃত কাঠ প্রাকৃতিকভাবে পচে মাটির পুষ্টিগুণ বাড়ায়।
কাঠঠোকরা পাখির কাঠ ঠোকরানোর অন্যতম কারণ হলো খাদ্য সংগ্রহ করা। এরা গাছের ভেতরে থাকা গাছের জন্য ক্ষতিকর পোকা খেয়ে বেঁচে থাকে। এ জন্যই কাঠঠোকরা পাখিকে “গাছের ডাক্তার” বলা হয়। কারণ, এরা গাছের ভেতরে থাকা পোকামাকড় খাওয়ার ফলে গাছের রোগের সংক্রমণ রোধ, দ্রুত বেড়ে ওঠা ও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
তাদের পরিত্যক্ত গর্তগুলোতে পরবর্তী সময়ে পেঁচা, বাদুড়, ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও অন্যান্য পাখি নিরাপদে বসবাস করে এবং ডিম পাড়ে। বনের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ও খাদ্যশৃঙ্খল সচল রাখতে এরা বিশেষ অবদান রাখে।
আসুন, আমরা সবাই মিলে গাছ রোপণের মাধ্যমে পাখিদের জন্য “নিরাপদ অভয়ারণ্য” গড়ে তুলি। পাখি হত্যা বন্ধ করি, আবাসযোগ্য দেশ গড়ি।