ঢাকা   ০৭:২৩:১০ এএম, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মেঘনায় বিএনপি নেতা মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ, ওসি-ইউএনও’র দাবি তর্কাতর্কি চারদিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী চৌদ্দগ্রাম দত্তসার রহমানীয়া মাদ্রাসার মাহফিল ১৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শহীদ জেহাদের পরিবারের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনির্দিষ্টকালের জন্য রিয়াদের ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান বিদ্যুৎ সক্ষমতা থাকলেও উৎপাদন কম : সংসদীয় কমিটি ডেঙ্গুতে ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৬৩১ জন আমদানি নির্ভর জ্বালানি থেকে বের হতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে : খাদ্যমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১০৮৬

তারেক রহমান: মানুষের হৃদয়ের কথা বলেন

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, September 13, 2026,
  • 22 Time View

মো. মিজানুর রহমান :

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের নাম নিঃসন্দেহে তারেক রহমান। দেশে না থেকেও তিনি ছিলেন; পাশে না থেকেও তাঁর ছায়া ঘিরে ছিল দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশের আপামর মানুষকে। যার দৃষ্টান্ত যশোরের ‘শুভ্র বালিকা’ আফিয়া। অস্বাভাবিক গায়ের রঙের কারণে যার বাবা তাদের ছেড়ে চলে যান।
বছর তিনেকের কন্যাশিশুকে নিয়ে মা মনিরা যখন অকূল পাথারে, তখনই তাঁদের পাশে দাঁড়ান মানবিক রাজনীতিক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব নেন শিশুটি ও তার মায়ের। কেবল দায়িত্ব নেওয়াই নয়, শিশুটিকে নিয়ে তার বাবার ভ্রান্ত ধারণা যাতে নিরসন হয়, সে বিষয়টিও দেখভালের দায়িত্ব দেন দলীয় নেতাদের ওপর। তারেক রহমানের এমন অভিভাবকত্ব শুধু আফিয়া ও তার মা মনিরাকেই নয়, আপ্লুত করেছে কোটি কোটি সাধারণ মানুষকেও।
২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার তারেক রহমানকে নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ প্রোপাগান্ডা ছড়ায়। দুর্নীতি ও লুটপাটের কথিত নানা গল্প বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে তাঁকে কোণঠাসা করে ফেলা হয়। কেননা তারা জানত, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার তারেক রহমানের মধ্যে যে মানবিক রাজনৈতিক ধারা বহমান, তার চর্চা যত বেশি হবে, দেশের সাধারণ মানুষ তত বেশি বিএনপির প্রতি আকৃষ্ট হবে। সে কারণেই জনগণ থেকে তারেক রহমানকে দূরে সরিয়ে রাখার চক্রান্ত করা হয়েছে।
তবে চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সেই চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রকে অনেকটাই ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। জনগণ নতুন করে আবিষ্কার করেছে একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিককে। জনগণ চিনতে পেরেছে একজন সত্যিকারের নেতাকে। সংকট কিংবা সম্ভাবনায় দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক হিসেবে তারা পেয়েছে তারেক রহমানকে। যিনি তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ভাবেন দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে। কাজ করেন দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের জন্য।
তারেক রহমানের জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান। পারিবারিক পরিচয়ে তিনি ক্ষমতার বৃত্তে বেড়ে উঠলেও ক্ষমতা তাঁকে কখনোই স্পর্শ করেনি। বরং বাবা ও মায়ের আদর্শে তিনি হয়ে উঠেছেন একজন দেশ ও মানবতাবাদী রাজনীতিক। সে কারণেই তিনি দেশের কোটি কোটি মানুষের কাঙ্ক্ষিত আগামীর রাষ্ট্রনায়ক। যার প্রতীক্ষায় বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে তার অমিত সম্ভাবনা নিয়ে।
১৯৮৯ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে নাম লেখান তারেক রহমান। এরপর শুরু হয় তাঁর রাজনীতিক হয়ে ওঠার লড়াই। ক্ষমতাকে ব্যবহার করে নয়, বরং তৃণমূলের মানুষের কাছে গিয়ে তাঁদের কাছ থেকেই তিনি শিখেছেন রাজনীতি। প্রান্তিক মানুষের সমস্যা, সংকট ও সম্ভাবনার চুলচেরা বিশ্লেষণ কিংবা উত্তরণের উপায় খুঁজতে খুঁজতে রাজনীতিকে নিজের কাছে সহজপাঠ্য করে তুলেছেন তিনি।
তিনি ধারণ করেছেন কৃষকের স্বপ্ন, মুটে-মজুরের সংগ্রাম কিংবা তারুণ্যের সম্ভাবনাময় আগামীকে। তাই তো তাঁর রাষ্ট্রদর্শন কিংবা রাজনৈতিক বক্তব্য এতটা বাস্তবসম্মত। মনে হয়, যেন তিনি মানুষের হৃদয়ের কথাই বলেন। যেন তিনি বলেন—আমি, তুমি আর আমরা যা বলতে চেয়েছি, অথবা ভেবেছি বলব বলে—সেসব কথাই তিনি উচ্চারণ করছেন।
দলীয় তেমন কোনো পদ-পদবিতে না থাকলেও বহু আগে থেকেই ছাত্রদলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করেন তারেক রহমান। তিনি নিজে রাজনীতি বুঝেছেন। যা ভেবেছেন কিংবা যেভাবে রাজনীতিকে দেখতে চেয়েছেন, তা নিয়ে কথা বলেছেন নেতাদের সঙ্গে। এভাবে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে দল। এগিয়েছে দেশ। আর রাজনীতিতে পরিপক্ব হয়েছেন তিনি।
২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের ভোট বিপ্লবের নেপথ্য কারিগর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তারেক রহমান। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলেও তারেক রহমান সরকারে যোগ না দিয়ে সাংগঠনিক কাজে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন। তাঁর নেতৃত্বে দলীয় কর্মকাণ্ডের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানেই তিনি নিজেকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পাদপ্রদীপে নিয়ে আসতে সক্ষম হন।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি ও নির্বাহী কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে কাউন্সিলের মাধ্যমে তারেক রহমানকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ও দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চেয়ারপারসন কার্যালয়ের সার্বিক দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তারেক রহমান।
রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক—এক কথায় দেশ ও দল পরিচালনার একটি আধুনিক গবেষণাগার হিসেবে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু হয় চেয়ারপারসন কার্যালয়ে। শিক্ষিত ও মেধাবী একদল আধুনিক কর্মীবাহিনী এবং বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের বাস্তবধর্মী কর্মযজ্ঞ শুরু করেন কর্মবীর তারেক রহমান।
দক্ষ কর্মীবাহিনীর মাধ্যমে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রকৃত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। এরপর প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করে দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সঠিক ও কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে সেই গবেষণালব্ধ পরিকল্পনা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দের কাছে সরবরাহের মধ্য দিয়ে নিরলসভাবে কাজ করেছে চেয়ারপারসন কার্যালয়।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, সাহিত্য, মানবাধিকার, আইনের শাসন, সামাজিক উন্নয়ন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, যোগাযোগ, আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিকায়নের চ্যালেঞ্জসহ সামগ্রিক বিষয়ে গবেষণা করা এবং গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করার মধ্যেই ছিল তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার পরিচয়।
তারেক রহমানের ভিশনারি রাজনীতির অন্যতম দৃষ্টান্ত হচ্ছে ‘তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলন’। ২০০২ সালে তৃণমূল পর্যন্ত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ছড়িয়ে দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে আগামী বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রাণশক্তিতে রূপান্তরের এক মহাযজ্ঞ নিয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রান্তিক এলাকাগুলো চষে বেড়ান।
তারেক রহমানের এই অফুরন্ত প্রাণশক্তি তাঁকে তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘তারুণ্যের উদ্বোধিত শক্তি’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে। তিনি বিশ্বাস করেন, এ দেশের তরুণ সমাজের কাছে দেশের সঠিক ইতিহাস, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশবাদী রাজনীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হলে একদিন তাঁদের মাধ্যমেই বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে একটি রোল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হবে।
এ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে লাখো মানুষের তুমুল হর্ষধ্বনি ও অবিরাম ভালোবাসা সঙ্গে নিয়ে সবুজ বাংলার প্রান্তর থেকে প্রান্তরে ঘুরে বেড়িয়েছেন তারেক রহমান।
২০০৫ সালের জানুয়ারি থেকে টানা তিন মাস দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘ইউনিয়ন প্রতিনিধি সভা’ করে তিনি দলে নতুনভাবে আলোড়ন ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে সক্ষম হন। কেননা তিনি মনে করেন, বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীই দল ও দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখতে পারে। সঠিক নির্দেশনা ও দক্ষ নেতৃত্ব তাঁদের ভেতরে সুপ্ত নেতৃত্বকে জাগিয়ে তুলতে পারে।
সে কারণেই তিনি তৃণমূলে ঘুরে ঘুরে তাঁদের উজ্জীবিত করেন। তাঁর এই অভিনব রাজনৈতিক ভাবনা এবং তা বাস্তবায়নের প্রারম্ভিক কর্মসূচিগুলো ছিল নন্দিত, যথাযোগ্য ও সময়ের চেয়ে অগ্রসর। রাজনীতিতে তারেক রহমানের এসব কর্মসূচি ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। বিরোধী শিবিরেও তাঁকে নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়।
রাজনীতির বাইরেও তারেক রহমানের সমাজ ও দেশ নিয়ে ভাবনার ইচ্ছা প্রবল। তিনি চেয়েছেন কখনোই যেন দেশের মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন না হন। ক্ষমতায় না থেকেও যাতে সামাজিক উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে নেওয়া যায়, সে লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’।
তাঁর হাতে গড়া অরাজনৈতিক এই সংগঠনটি দেশে মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বহু বছর ধরে এই ফাউন্ডেশন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
হাসিনার প্রায় ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী আমলের অবসান হয়েছে। তারুণ্যের প্রবল ঝড়ে উড়ে গেছে অহংকার ও দম্ভের রাজপ্রাসাদ। দেশে এখন বইছে গণতন্ত্রের হাওয়া। রক্তস্নাত বিপ্লব আমাদের ধরে রাখতে হবে। এগিয়ে নিতে হবে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দূরদর্শিতা এবং বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশপন্থী রাজনীতিকে ছড়িয়ে দিতে হলে এই মুহূর্তে তারেক রহমানের বিকল্প নেই। তাঁর নেতৃত্বেই সৃষ্টি হবে এক নতুন ইতিহাস। বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশ এখন তাঁর হাত ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে।
শুভ জন্মদিন, ভিশনারি লিডার তারেক রহমান। জন্মদিনে আপনার প্রতি রইল অফুরন্ত শুভকামনা।
লেখক: সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএমটিএ)।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি