নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৩৫ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ। একই সময়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক করা হয়েছে ৭৯৪ জনকে। তাঁদের মধ্যে ৬১৬ জনকে মুচলেকায় জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৭৮ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের প্রকাশিত ২৪ ঘণ্টার অপরাধ দমন ও উদ্ধারসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়মিত মামলায় ৯৫ জন, আগের মামলায় ৬২ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ২৮ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আটজন এবং ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া পরোয়ানামূলে ১২১ জন ও সাজা পরোয়ানামূলে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকসংক্রান্ত অপরাধে ৭১ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় ৪৭ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ জনকে কারাদণ্ড এবং ৮ হাজার ৭৫০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে ৭ হাজার ২৩৭ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৩০ গ্রাম গাঁজা, ১১৩ লিটার চোলাই মদ, ১০০টি ট্যাডেন্টাডল ট্যাবলেট ও ৪৬ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১২ বোতল রয়্যাল স্ট্যাগ ডিলাক্স হুইস্কি, ২৪ ক্যান কিংফিশার স্ট্রং এবং ২৪ ক্যান হি-ম্যান ৯০০০ স্ট্রং উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে কুমিল্লায় চারজন, রাঙামাটিতে দুজন, নোয়াখালীতে একজন ও খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে জেলাগুলোর মধ্যে কুমিল্লায় সর্বোচ্চ ৩৬২ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া নোয়াখালীতে ১৩৭, লক্ষ্মীপুরে ১২৮, চট্টগ্রামে ৮৯, কক্সবাজারে ১৮, চাঁদপুরে ১৭, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৬, খাগড়াছড়িতে ১২, রাঙামাটিতে ১০ ও ফেনীতে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ জানিয়েছে, জনস্বার্থে কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।