https://bindubanglatv.com/
বিপ্লব সিকদার : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল নিবন্ধনে সরকার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা ও চিকিৎসাসেবায় অবহেলার অভিযোগে পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঝিনাইদহ ও চাঁদপুরের পৃথক দল এসব অভিযান পরিচালনা করে। দুদকের প্রধান কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অভিযানের সময় দুদক টিম ছদ্মবেশে সেবাদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। এ সময় দলিলের প্রতিটি টিপসই গ্রহণের বিপরীতে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ঘুস আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র দেখতে পায় টিম। অভিযানকালে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে মাস্টাররোলে কর্মরত একজন কর্মচারীকে ঘুস গ্রহণের সময় হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
এ ছাড়া অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছে দুদক। এসব নথি পর্যালোচনা করে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে অভিযান পরিচালনাকারী দল।
অন্যদিকে, চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকদের যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের বিষয়টি যাচাই করতে অভিযান চালায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চাঁদপুরের একটি দল।
অভিযানকালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি হাজিরা খাতা ও বায়োমেট্রিক হাজিরা যাচাই করা হয়। এ সময় হাসপাতালে রোগীদের অত্যধিক চাপ দেখতে পায় দুদক টিম। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার মান, সেবা গ্রহণের প্রতিবন্ধকতা এবং হয়রানির অভিযোগ সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
এ ছাড়া হাসপাতালের টিকিট বিতরণ কার্যক্রম, বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগের সেবাদান পদ্ধতি, রোগীদের খাবারের মান এবং রান্নাঘরের পরিবেশ পরিদর্শন করা হয়। ভর্তিকৃত রোগীদের ওয়ার্ড ও প্যাথলজি বিভাগ ঘুরে চিকিৎসাসেবার মান এবং রোগীরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন কি না, তা যাচাই করে দুদক টিম।
পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলো জানানো হয়। একই সঙ্গে রোগীদের যথাসময়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, সেবার মানোন্নয়ন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উভয় অভিযানে সংগৃহীত তথ্য, নথিপত্র ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।