ঢাকা   ১১:৩১:৪২ এএম, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ নভেম্বরের চেতনা থেকেই ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান: রিজভী

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, November 7, 2026,
  • 0 Time View
  • ৭ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ৭ নভেম্বরের চেতনা কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার থেকেই সেদিন ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল।  

শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই জাতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র খুঁজে পেয়েছিল। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও উৎপাদনে এগিয়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

তিনি বলেন, খাল খনন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও সাক্ষরতা অভিযানসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশকে আধিপত্যবাদের প্রভাবমুক্ত রাখার অঙ্গীকারও ছিল তার নেতৃত্বের অন্যতম লক্ষ্য। 

৭ নভেম্বরের চেতনা প্রসঙ্গে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সেদিনের অঙ্গীকার ছিল স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের অব্যাহত ধারা নিশ্চিত করা। এই চেতনার ভিত্তিতেই বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে পায়।

রিজভী বলেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে থাকেনি। তারা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। তবে ৭ নভেম্বরের মুক্তি, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার চেতনা বারবার মানুষকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা জুগিয়েছে।  

তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে নয় বছরের দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালে আবারও গণতন্ত্র ফিরে আসে। সেই আন্দোলনেও ৭ নভেম্বরের চেতনা জনগণকে তাগিদ জুগিয়েছিল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, ২০০৯ সালে পুরোনো বাকশালের নতুন সংস্করণ তৈরি হয়। ক্ষমতায় এসে সেই শক্তি জনগণের অধিকার কেড়ে নেয় এবং দেশকে ভয়াবহ ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেয়। ১৭ বছর ধরে গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মানুষ ভয়ে কথা বলতে পারত না, রাস্তায় চলাচল করতেও ভয় পেত।  

তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকেরা রাজপথে নেমে আসেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটে। এই আন্দোলনের পেছনেও ছিল ৭ নভেম্বরের চেতনা এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও বহুদলীয় গণতন্ত্র রক্ষার অঙ্গীকার।

বর্তমান সরকারের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আবারও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন। তিনি কোনো মিথ্যা আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি দেননি।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় এলে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। হতদরিদ্র মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে এসব উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুই-তিন দিনের মধ্যেই তারেক রহমান এসব কাজ শুরু করেছেন।

রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিএনপি সব অগণতান্ত্রিক ও দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে প্রস্তুত রয়েছে। দেশের মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা, উন্নয়ন ও উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।  

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি