• বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

মেহমানের মর্যাদা ও আমাদের সামাজিক দায়িত্ব

বিপ্লব সিকদার / ২১৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে মেহমানদারি একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। অতিথিকে সম্মান করা শুধু ভদ্রতা নয়, এটি আমাদের নৈতিকতা, সংস্কৃতি ও ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক সময় দেখা যায়, মেহমানকে দাওয়াত করে এনে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না; যেমন—মেহমানকে নিচে বসিয়ে আয়োজক নিজে মঞ্চে বসে থাকেন। এই আচরণ শিষ্টাচার ও সামাজিক আদবের পরিপন্থী।মেহমান মূলত সম্মানের প্রতীক। তাকে আমন্ত্রণ জানানো মানে হলো তার উপস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া। সেখানে যদি আয়োজক নিজে উঁচু আসনে বসে থাকেন আর মেহমানকে নিচে বসতে দেওয়া হয়, তবে তা মেহমানের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে। এতে মেহমান মনে করতে পারেন যে তাকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার জন্য ডাকা হয়েছে, প্রকৃত সম্মান দেওয়ার মানসিকতা সেখানে অনুপস্থিত।
বাংলা সংস্কৃতিতে বলা হয়, “অতিথি দেবতা সমান।” ইসলামী আদর্শেও মেহমানকে সম্মান করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নবী করিম (সা.) মেহমানের খেয়াল রাখা, তাকে সম্মানিত করা এবং আরামদায়ক ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং মেহমানকে নিচে বসিয়ে নিজে মঞ্চে বসা শুধু সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, ধর্মীয় দৃষ্টিতেও অনুচিত।এই ধরনের আচরণ অহংকার ও আত্মমর্যাদাবোধের ভুল প্রকাশ। প্রকৃত মর্যাদা অন্যকে সম্মান করার মাধ্যমেই বৃদ্ধি পায়। যে ব্যক্তি তার মেহমানকে সম্মান দিতে জানে, সমাজে সেই ব্যক্তিই প্রকৃত সম্মান লাভ করে। পক্ষান্তরে, অতিথিকে অবমূল্যায়ন করলে নিজের ব্যক্তিত্বই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।অতএব, আমাদের উচিত মেহমানকে তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়া। যদি মঞ্চে বসার প্রয়োজন হয়, তবে মেহমানকে পাশে বা সমমর্যাদার স্থানে বসানো উচিত। সম্মান দেখানো বড় কিছু নয়; এটি আন্তরিকতা ও সৌজন্যের প্রকাশমাত্র। মেহমানের সম্মান রক্ষা করাই একটি সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক সমাজ গঠনের অন্যতম শর্ত।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন