মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা উপজেলার অন্তত ২০টি সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকট চলছে। গুরুত্বপূর্ণ পদ বছরের পর বছর শূন্য থাকায় সরকারি সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই দুর্ভোগ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ সেবা প্রত্যাশীরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ দপ্তরে অনুমোদিত পদের তুলনায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। ফলে একদিকে যেমন সেবা কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চাপে পড়ছেন কর্মরত কর্মকর্তারাও।
সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে। সেখানে ৭৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪৭ জন। শূন্য রয়েছে ৩০টি পদ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ৩৩টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১২ জন; খালি রয়েছে ২১টি পদ। উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে ৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১ জন।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের অবস্থাও নাজুক। ১২টি পদের বিপরীতে সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। শূন্য রয়েছে ৯টি পদ। পল্লী উন্নয়ন কার্যালয়ের একমাত্র কর্মকর্তার পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে।
পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে ৫৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৬ জন। শূন্য রয়েছে ২৮টি পদ। সমাজসেবা অধিদপ্তরের ৮টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন। সমবায় কার্যালয়ের ৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১ জন এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে ৪টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১ জন।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও রয়েছে চরম সংকট। ৫টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১ জন কর্মকর্তা। উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ে ৬টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ২ জন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে ৩টি পদের মধ্যে ২টি পদ শূন্য রয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের দুটি পদই খালি রয়েছে। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে ১৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১০ জন। উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের ৮টি পদের মধ্যে ৬টি এবং উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের ৪টির মধ্যে ২টি পদ শূন্য রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনবল সংকটের কারণে একটি সেবা পেতে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে কাজ না হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে সাধারণ মানুষের।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার বলেন, “বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা বিষয়টি তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। আমিও বিষয়টি মাননীয় সংসদ সদস্যকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। তিনি ডিও লেটারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছেন।”