• রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৫:৫৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
মেঘনায় জমি সংক্রান্ত জেরে ভাইয়ের বিরুদ্ধে খুন-জখমের আশঙ্কার অভিযোগ দেশে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন রাজনৈতিক ধারা গড়ে তুলছে এনসিপি: হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি নির্বাচনী গণসংযোগে হামলার মামলায় আ’লীগের ৮৬ নেতাকর্মী আসামি মেঘনায় পৃথক অভিযানে গাঁজা-চোরাই মাল জব্দ চাঁদাবাজি,সন্ত্রাসী ও মাদককারবারি প্রতিহত করা হবে : ড.খন্দকার মারুফ প্রাইভেটকারে ৬০ কেজি গাঁজা, পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে চালক উধাও মেঘনায় ইয়াবাসহ আটক যুবক কারাগারে ডিইউজের আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সভা, সমবায় পুনর্গঠনের দাবি মেঘনায় অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার, কিশোর আলাদা প্রক্রিয়ায় আদালতে প্রেরণ নদী খননে স্বচ্ছতা জরুরি

মেঘনায় জমি সংক্রান্ত জেরে ভাইয়ের বিরুদ্ধে খুন-জখমের আশঙ্কার অভিযোগ

বিপ্লব সিকদার / ৩৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

একসময় এলাকার শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত পরিবার হিসেবে পরিচিত ছিলেন তারা। একজন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অন্যজন চিকিৎসক। কিন্তু সেই পরিবারের দুই ভাই এখন মুখোমুখি অবস্থানে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একে অপরের বিরুদ্ধে উঠেছে খুন-জখমের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও দখলচেষ্টার অভিযোগ। ঘটনাটি নিয়ে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।রোববার (১৭ মে) মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, তার আপন ভাই ডাঃ মো. আব্দুল মোমেন দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ জমি জোরপূর্বক দখলে রাখার চেষ্টা করছেন এবং প্রতিবাদ করায় তাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেঘনা উপজেলার একটি মৌজায় অবস্থিত পৈত্রিক ও স্ব-অর্জিত সম্পত্তির সীমানা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। পরিবারটির সদস্যরা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করলেও গ্রামের ওই সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে বিরোধ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৫ মে উভয় পক্ষের সম্মতিতে জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য দুইজন আমিন ঘটনাস্থলে যান। এ সময় এলাকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন। সীমানা নির্ধারণের একপর্যায়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন, তার অনুপস্থিতির সুযোগে ডাঃ মোমেন জমির একটি অংশ দখল করেছেন।
এই অভিযোগের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, ডাঃ মোমেন ক্ষুব্ধ হয়ে বড় ভাইকে প্রকাশ্যে খুন-জখমের হুমকি দেন। এমনকি আঙুল ভেঙে ফেলা ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার কথাও বলা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে উপস্থিত ব্যক্তিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এটাই প্রথম নয় বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। তার ভাষ্য, গত ১১ মে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে ও তার স্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এ ধরনের আচরণের ঘটনায় অতীতে একটি মামলায় ডাঃ মোমেন মুচলেকাও দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেই মামলার নথি এই প্রতিবেদকের হাতে পৌঁছেনি।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী বর্তমানে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, চাকরির কারণে অধিকাংশ সময় ঢাকায় অবস্থান করলেও পৈত্রিক সম্পত্তি দেখভালের জন্য তাকে গ্রামে আসতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি বলেন,
“প্রকাশ্যে যেভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাতে যেকোনো সময় হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। আমি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা চেয়েছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ডাঃ মো. আব্দুল মোমেন। তিনি এই প্রতিবেদককে  বলেন,
“তিনি আমার বড় ভাই। তিনি যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বরং উনার স্ত্রী আমাকে জবাই করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।”স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ নতুন নয়। জমির মালিকানা, সীমানা ও ভোগদখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক উত্তেজনা চলে আসছে। কয়েক দফা সালিস বৈঠক হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি সোহরাব মেম্বার বলেন,
“ওনারা শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত পরিবারের লোকজন। কিন্তু কারও কথা কেউ শুনতে চায় না। নিজেরা যদি আন্তরিকভাবে সমাধানে না আসে, তাহলে বাইরের কেউ এই ঝামেলা মিটাতে পারবে না।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন,  তিনি বলেন,
“আমি অভিযোগটি পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওসি সাহেবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, শিক্ষিত ও প্রভাবশালী পরিবারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব যখন প্রকাশ্যে প্রাণনাশের আশঙ্কা পর্যন্ত গড়ায়, তখন সেটি শুধু পারিবারিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মেঘনায় অতীতেও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ফলে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ না হলে এই বিরোধও বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন