ঈদুল আজহা সামনে এলেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোরবানির পশুর হাট নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়। কিন্তু প্রতি বছরই একটি বিতর্ক সামনে আসে বিদ্যালয়ের মাঠে পশুর হাট বসানো যাবে কি না। প্রশাসনের নির্দেশনা, আইনগত অবস্থান এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা থাকলেও বাস্তবে তার ব্যত্যয় ঘটছে নিয়মিত।সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমোদিত নিয়ম নেই। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, স্কুল-কলেজের মাঠে হাট ইজারা দেওয়া হয় না এবং এ ধরনের কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে বিবেচিত।তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বিভিন্ন জেলায় দেখা গেছে, ইজারাদাররা অন্য স্থানের নামে অনুমতি নিয়ে পরে সুবিধাজনক হিসেবে বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার করছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের অজান্তেই বা নির্দেশনা অমান্য করে স্কুল মাঠে হাট বসানো হচ্ছে।
কুমিল্লা, নরসিংদী, নেত্রকোনা সহ বিভিন্ন এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে প্রশাসন সরাসরি হস্তক্ষেপ করে হাট বন্ধ করেছে বা জরিমানা করেছে। এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নজিরও রয়েছে। শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, বিদ্যালয়ের মাঠ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের জন্য সংরক্ষিত। সেখানে পশুর হাট বসালে পরিবেশ দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হয়। অন্যদিকে, স্থানীয় বাস্তবতায় কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দুর্বলতা বা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় না। কোথাও কোথাও দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথার অজুহাতে বা জায়গা সংকট দেখিয়ে বিদ্যালয় মাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বর্তমান বাস্তবতায় বলা যায়—আইন ও প্রশাসনিক নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানো নিষিদ্ধ বা অন্তত নিরুৎসাহিত। তবে মাঠপর্যায়ে এই নিষেধাজ্ঞা সবসময় কার্যকর হচ্ছে না, ফলে প্রতিবছরই একই সমস্যা ফিরে আসছে।এখন প্রশ্ন থাকে, চলতি বছর বিদ্যালয় মাঠে হাট বন্ধ থাকবে কি না—এর উত্তর নির্ভর করছে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোরতা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্ত এবং জনগণের সচেতনতার ওপর। কঠোর নজরদারি থাকলে বন্ধ থাকবে, না হলে আগের মতোই নানা কৌশলে চালু থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।