• সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

অবৈধ চুনা কারখানায় দমছে পরিবেশ ও প্রশাসন

বিপ্লব সিকদার / ৩৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় অবৈধ চুনা কারখানার বিস্তার নতুন কোনো ঘটনা নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর ভয়াবহতা উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান, জরিমানা এবং উচ্ছেদ কার্যক্রমের পরও রহস্যজনকভাবে আবার চালু হয়ে যাচ্ছে এসব কারখানা। ফলে প্রশ্ন উঠছে—কারা এই অবৈধ ব্যবসার পৃষ্ঠপোষক, কেন এই দুই উপজেলাই বারবার বেছে নিচ্ছে চক্রটি, এবং কেনই বা প্রশাসন কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে?অনুসন্ধানে জানা যায়, গজারিয়া ও সোনারগাঁও ভৌগোলিকভাবে নদীবেষ্টিত এবং যোগাযোগের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক। মেঘনা ও শীতলক্ষ্যা নদীপথ ব্যবহার করে সহজেই কাঁচামাল আনা এবং উৎপাদিত চুন দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা যায়। নদীপথের এই সুবিধা অবৈধ কারখানা স্থাপনের জন্য বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি এসব এলাকায় জনবসতি তুলনামূলক কম এবং প্রশাসনিক নজরদারিও সীমিত—যা অবৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।চুনা উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয় ঝিনুক, শামুকের খোলস ও চুনাপাথর, যা উচ্চ তাপে পোড়ানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় নির্গত হয় বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস। ফলে আশপাশের বায়ুমণ্ডল মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কারখানার ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসজনিত রোগ বাড়ছে।এছাড়া চুনা কারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে, যা জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীর পানির স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হয়ে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। কৃষিজমিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, ফলে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।প্রশাসন একাধিকবার অভিযান চালিয়ে এসব কারখানা বন্ধ করলেও কয়েকদিন পরই তা আবার চালু হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্র বলছে, এর পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া। রাজনৈতিক পরিচয়, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তার যোগসাজশে এই অবৈধ ব্যবসা টিকে আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযানের আগেই তথ্য ফাঁস হয়ে যায়, ফলে মালিকরা সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রেখে পরে আবার চালু করে।
আরও জানা যায়, এসব কারখানায় শ্রমিকদের কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেও তারা ন্যায্য মজুরি পান না। দুর্ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ সময় তা গোপন রাখা হয়, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু অভিযান চালিয়ে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কঠোর নজরদারি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই অবৈধ চক্র ভাঙা কঠিন।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন