রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা ও অনিয়মের অভিযোগে ভারাক্রান্ত বর্তমান প্রেক্ষাপটে মেয়র পদপ্রার্থী মেঘনা আলম ফেসবুক পোস্টে নিজেকে উপস্থাপন করছেন পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে। তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য—“নিরাপদ ঢাকা”—শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং নারীর নিরাপত্তা, সুশাসন ও নাগরিক মর্যাদা পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি।
মেঘনা আলমের দাবি, দেশে নারীরা এখনও ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ভয় নিয়ে চলাফেরা করেন। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার এ পরিস্থিতিকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে। তাই সিটি করপোরেশন পর্যায় থেকেই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া তদারকি এবং নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ভুয়া মামলা ও হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে আইনি সুরক্ষা দিতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তোলা জরুরি। তাঁর প্রতিশ্রুতি—দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং প্রশাসনে প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতা আনা।
ঢাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা—যানজট, ময়লা, মশা, দূষণ, মাদক ও চাঁদাবাজি—নিরসনে তিনি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার কথা বলেছেন। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা এবং কমিউনিটি পুলিশিং জোরদারের মাধ্যমে নগর ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
রাজনৈতিক অর্থায়ন নিয়ে বিতর্কের মাঝেও মেঘনা আলম নিজেকে স্বনির্ভর ও স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁর বক্তব্য, অসাধু অর্থায়নের প্রভাবমুক্ত থেকে সৎ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বই পারে নগরবাসীর আস্থা ফিরিয়ে আনতে।আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের বিষয়টিও তাঁর অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। তিনি মনে করেন, নিরাপদ ও সুশাসিত নগরই পারে দেশের ইতিবাচক বার্তা বিশ্বে পৌঁছে দিতে।
সব মিলিয়ে, “নিরাপদ ঢাকা”র অঙ্গীকার নিয়ে মেঘনা আলমের প্রচারণা নগর রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়—ভোটাররা তাঁর এই প্রতিশ্রুতিকে কতটা সমর্থন দেন।