• বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৯:১৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
মেঘনায় পৃথক অভিযানে গাঁজা-চোরাই মাল জব্দ চাঁদাবাজি,সন্ত্রাসী ও মাদককারবারি প্রতিহত করা হবে : ড.খন্দকার মারুফ প্রাইভেটকারে ৬০ কেজি গাঁজা, পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে চালক উধাও মেঘনায় ইয়াবাসহ আটক যুবক কারাগারে ডিইউজের আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সভা, সমবায় পুনর্গঠনের দাবি মেঘনায় অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার, কিশোর আলাদা প্রক্রিয়ায় আদালতে প্রেরণ নদী খননে স্বচ্ছতা জরুরি এখন টিভিতে চার সাংবাদিকের ছুটি নিয়ে প্রতিবাদ সোমবার মেঘনায় জামায়াত ও যুবলীগ নেতার আধিপত্য ও পূর্ব শত্রুতা :সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১আহত ৪ মেঘনার মাধবপুরে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

ভার্চুয়াল প্রেসারগ্রুপের আক্রমণ সত্য সংবাদের বড় বাধা

বিপ্লব সিকদার / ২৪৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬

ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহ যেমন দ্রুততর হয়েছে, তেমনি বেড়েছে মতপ্রকাশের বহুমাত্রিকতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে এখন যে কেউ নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারছে, গড়ে তুলতে পারছে প্রভাব বলয়। কিন্তু এই ইতিবাচক পরিবর্তনের আড়ালেই তৈরি হয়েছে এক নতুন সংকট ভার্চুয়াল প্রেসার গ্রুপ বা অনলাইন চাপ গোষ্ঠীর আধিপত্য। এই গোষ্ঠীগুলোর রোষানলে পড়ে আজ সত্য সংবাদ ও সৃজনশীল লিখনিতে স্পষ্টভাবে দেখা দিচ্ছে এক ধরনের অশনি সংকেত।
ভার্চুয়াল প্রেসার গ্রুপ বলতে বোঝায় এমন কিছু সংগঠিত বা আধা-সংগঠিত অনলাইন গোষ্ঠী, যারা নির্দিষ্ট মতাদর্শ, রাজনৈতিক অবস্থান বা স্বার্থকে কেন্দ্র করে সক্রিয় থাকে এবং নিজেদের মতের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য দেখলেই সম্মিলিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। অনেক ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়া গঠনমূলক সমালোচনার সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ, হুমকি, অপপ্রচার এমনকি সামাজিকভাবে হেয় করার পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
ফলে সাংবাদিক, লেখক, গবেষক কিংবা সৃজনশীল ব্যক্তিরা এক ধরনের অদৃশ্য চাপের মধ্যে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কোনো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে সত্য প্রকাশ করতে গেলে আগে ভাবতে হচ্ছে—এটি প্রকাশ করলে কোন গোষ্ঠীর ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে? এর ফলে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বাড়ছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি।বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় এর প্রভাব বেশি। কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম বা ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা তুলে ধরলে তাৎক্ষণিকভাবে সংগঠিত আক্রমণ শুরু হয়। ফেসবুক পোস্ট, ইউটিউব ভিডিও বা অনলাইন নিউজের নিচে পরিকল্পিতভাবে নেতিবাচক মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে সাধারণ পাঠকের মনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া তথ্য দিয়ে সাংবাদিক বা লেখকের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়।
এই পরিস্থিতি শুধু পেশাদার সাংবাদিকদের জন্যই নয়, বরং সাধারণ সৃজনশীল লেখকদের জন্যও উদ্বেগজনক। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ বা মতামত—যে কোনো লেখাতেই যদি ভিন্নমত বা নতুন চিন্তা প্রকাশ পায়, তখনই তা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে। ফলে নতুন চিন্তার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সমাজে এক ধরনের একমুখী চিন্তাধারা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনেক সময় এই ভার্চুয়াল চাপ গোষ্ঠীগুলো বাস্তব জীবনের প্রভাবও বিস্তার করে। অনলাইনের আক্রমণ কখনো কখনো অফলাইনে হুমকি বা হয়রানির রূপ নেয়। এতে লেখক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে, যা গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার জন্য অশনি সংকেত।তবে এর অর্থ এই নয় যে সামাজিক মাধ্যমের সমালোচনা বা প্রতিক্রিয়া সবই নেতিবাচক। গঠনমূলক সমালোচনা গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু যখন এটি সংগঠিত অপপ্রচার, ভয়ভীতি বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা অবশ্যই প্রতিরোধ করা প্রয়োজন।এই সংকট মোকাবেলায় কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, ডিজিটাল লিটারেসি বাড়াতে হবে, যাতে মানুষ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে পারে। দ্বিতীয়ত, গণমাধ্যম ও লেখকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোরও দায়িত্ব নিতে হবে সংগঠিত হেনস্তা ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন