• সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

খাল খননে ফিরছে কৃষকের হারানো স্বপ্ন

বিপ্লব সিকদার / ১২৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে খাল-বিল, নদী-নালার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। একসময় দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা খালগুলো ছিল কৃষকের প্রাণ, জীবিকার উৎস এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্যের প্রধান সহায়ক। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে অব্যবস্থাপনা, দখল ও অবহেলার কারণে সেই খালগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। এর ফলে কৃষক হারিয়েছে সেচের স্বাভাবিক ব্যবস্থা, নষ্ট হয়েছে ফসলের উৎপাদনশীলতা, আর প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পড়েছে চরম দুর্ভোগে।এই বাস্তবতায় খাল খনন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে নতুন করে যে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। বিশেষ করে যখন রাজনৈতিক নেতৃত্ব সরাসরি মাঠে নেমে, হাতে কোদাল তুলে নিয়ে কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেয়—তখন তা শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্পই নয়, বরং একটি প্রতীকী আন্দোলনে রূপ নেয়।শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃষকবান্ধব চিন্তা-চেতনার ধারাবাহিকতায় গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি পুনরুজ্জীবনের যে স্বপ্ন একসময় বোনা হয়েছিল, সেই ধারাকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা আজকের এই খাল খনন কার্যক্রমে স্পষ্ট। কৃষি ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে তার দর্শন ছিল বাস্তবমুখী এবং জনগণমুখী। সেই দর্শনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বর্তমান উদ্যোগগুলোতে।মেঘনা উপজেলার লক্ষণখোলা এলাকায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শুধু একটি স্থানীয় ঘটনা নয়; এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বার্তা বহন করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এই কর্মসূচিতে সরাসরি সম্পৃক্ততা নতুন প্রজন্মের কাছে একটি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় দেয়—যেখানে নেতৃত্ব কেবল নির্দেশ দেয় না, বরং নিজেই মাঠে নেমে কাজের অংশ হয়ে ওঠে।এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় দিক হলো কৃষকের আশা-আকাঙ্ক্ষার পুনর্জাগরণ। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত কৃষক সমাজ আজ আবারও আশার আলো দেখতে শুরু করেছে। খাল খননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নত হলে ফসল উৎপাদন বাড়বে, কমবে খরচ, বাড়বে আয়। এতে করে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এই ধরনের প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাদের জীবনযাত্রা সরাসরি নির্ভর করে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর। খাল খনন শুধু পানি প্রবাহ নিশ্চিত করবে না, বরং মাছ চাষ, নৌপথে যোগাযোগ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে এটি একটি বহুমাত্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।তবে এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে এর ধারাবাহিকতা, সঠিক পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের স্বচ্ছতার ওপর। শুধুমাত্র উদ্বোধন বা প্রতীকী অংশগ্রহণ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করাও জরুরি। তা না হলে খালগুলো আবারও আগের মতোই ভরাট হয়ে পড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন