গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সরকার যেমন রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান দায়িত্ব পালন করে, তেমনি বিরোধী দলও রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে তেমনি নিয়ম অনুযায়ী সংসদে বিরোধীদল গঠন হয়েছে। একটি কার্যকর বিরোধী দল শুধু সরকারের সমালোচনা করে না; বরং জনগণের স্বার্থে গঠনমূলক পরামর্শ প্রদান, ভুল নীতির সমালোচনা এবং বিকল্প কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য সৃষ্টি করে।
দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে বিরোধী দলের দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণ, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ইতিবাচক ভূমিকা এবং জনগণের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে বিরোধী দল দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে। অযৌক্তিক বিরোধিতা কিংবা রাজনৈতিক সংঘাতের পরিবর্তে যুক্তি, তথ্য ও নীতিনির্ভর সমালোচনা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে।একই সঙ্গে সরকারকেও বিরোধী দলের মতামতকে সম্মান করতে হবে। গণতন্ত্রে ভিন্নমতকে প্রতিপক্ষ নয়, বরং উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করাই রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচয়। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা থাকলে জাতীয় সংকট মোকাবিলা সহজ হয় এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশের স্বার্থকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি দমন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে ন্যূনতম ঐকমত্য থাকা জরুরি।