নারায়ণগঞ্জে আলোচিত দুটি ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। পৃথক অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি লুট হওয়া প্রায় সাড়ে ৮ ভরি স্বর্ণালংকার এবং একটি শটগান উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি, দস্যুতা ও অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত ৮ জুলাই সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা টোল প্লাজার পশ্চিম পাশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে জাপানপ্রবাসী এক পরিবারের বহনকারী গাড়ির গতিরোধ করে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। এ সময় তারা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই সোনারগাঁ থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের সর্দার কবির হোসেনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোনারগাঁয়ের মাগুড়া প্লট এলাকার একটি ঝোপঝাড় থেকে লুণ্ঠিত প্রায় সাড়ে ৮ ভরি স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত আরও একজন আসামি পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।
অন্যদিকে, গত ২ জুলাই বন্দরের ১১০ কেভি বিদ্যুৎকেন্দ্রে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের জিম্মি করে দুটি শটগান লুট করে একটি ডাকাত দল। ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ব্যাপক অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে রূপগঞ্জ এলাকা থেকে ডাকাত দলের সর্দার ফারুক হোসেন ওরফে ‘আইস ফারুক’-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত একটি শটগান উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতি, দস্যুতা ও অস্ত্র আইনের মামলা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্যদের জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
জেলা পুলিশের এ সফল অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এমন তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।