নিকলীতে নারীসহ ৫ মাদক কারবারিকে গণধোলাইয়ের পর পুলিশে দিল জনতা

এ.এস.এম হামিদ হাসান:

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলীতে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় জনতা।

পৃথক দুটি অভিযানে এক নারীসহ পাঁচজন মাদক কারবারিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী ও গ্রাম পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৬৮ পিস ইয়াবা ও প্রায় ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

​​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেল ৫ টার দিকে উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নে মাদক ব্যবসায়ীদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় জনগণ ও গ্রাম পুলিশ যৌথভাবে একটি অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে সিংপুরের গোড়াদিঘা ও পূর্ব টেংগুরিয়া এলাকা থেকে আছমা (৩০), নিরব (১৯) ও বিজয় (২৩)-কে আটক করা হয়। আটককৃত আছমা ওই এলাকার দীন ইসলামের স্ত্রী, নিরব মো. ফজলুর রহমানের ছেলে এবং বিজয় শাহাবুদ্দীনের ছেলে। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ১৬৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

​অন্যদিকে, একই দিন রাত ১২টা ৫০ মিনিটে উপজেলার ছাতিরচর এলাকায় স্থানীয় জনগণ ও গ্রাম পুলিশের সহায়তায় আরও একটি অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মো. বাদল মিয়া (৪৫) ও হিরা মিয়া (৪৫) নামের দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। বাদল মিয়া মৃত মমিন মিয়ার ছেলে এবং হিরা মিয়া মৃত কাশেম আলীর ছেলে। তাদের কাছ থেকে প্রায় ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

​পুলিশের বক্তব্য ও আইনি ব্যবস্থা

​এ বিষয়ে নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন,

​”মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রয়েছে। মাদক সংশ্লিষ্ট কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”

​তিনি আরও জানান, মাদক উদ্ধারের ঘটনায় নিকলী থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) এর সারণির ১৯(ক)/৪১ ধারায় পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আটককৃত পাঁচজনকে ইতিমধ্যেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

​উল্লেখ্য, গাঁজা উদ্ধারের মামলায় পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোমান খান এবং ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় এসআই সারেকুজ্জামান বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেছেন।