• বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়েছে, আতঙ্কে এলাকাবাসী সব স্কুল-কলেজে মনিটরিং জোরদারের নির্দেশ, মাউশির জরুরি আদেশ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত মোজাফফর আটক ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে জেলের হাতে ধরা পড়ল মেছো বাঘের বাচ্চা নাচোল থানায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন, অংশ নিলেন পুলিশ সুপার পাবনা শহরের যানজট নিরসনে তিন সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই: ইউএনও জাহিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা শুরু, ৫৪ স্টলে নানা পণ্যের সমাহার আধুনগরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠনের নামে গ্রুপিং থামানো জরুরি

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

বিপ্লব সিকদার:

প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির ভিত্তি। একজন শিশুর চরিত্র গঠন, মূল্যবোধের বিকাশ এবং শিক্ষাজীবনের প্রথম পাঠ শুরু হয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তাই এই স্তরের প্রতিটি শিক্ষক কেবল একজন সরকারি কর্মচারী নন; তিনি জাতি গঠনের কারিগর। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষকদের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনকে কেন্দ্র করে যে বিভাজন, গ্রুপিং এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের আলোচনা সামনে আসছে, তা উদ্বেগের বিষয়।

পেশাজীবী সংগঠন থাকা কোনো অপরাধ নয়। বরং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পেশাগত অধিকার আদায়, কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং নীতিগত দাবি উত্থাপনের জন্য সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু যখন কোনো সংগঠনের কার্যক্রম শিক্ষার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে প্রভাব বিস্তার, পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টি কিংবা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অযাচিত প্রভাব খাটানোর অভিযোগের জন্ম দেয়, তখন তা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়ায়।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে সংগঠনভিত্তিক বিভাজনের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষকদের একটি অংশের দাবি, নির্দিষ্ট কোনো সংগঠন বা গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলে তাঁরা নানা ক্ষেত্রে মানসিক চাপ, বৈষম্য কিংবা প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হন। এসব অভিযোগের সত্যতা অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত। তবে একই ধরনের অভিযোগ বারবার উঠে আসা নিজেই একটি সতর্কবার্তা।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কোথাও কোথাও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে বিদ্যালয়ে সময় কম দেওয়ার অভিযোগও শোনা যায়। শিক্ষক যদি শ্রেণিকক্ষে কম সময় দেন, তবে তার সরাসরি ক্ষতি হয় শিক্ষার্থীদের। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর জন্য একটি ক্লাসও গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে পাঠদানে অনিয়ম বা অবহেলার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।

বদলি, পদায়ন, প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি কিংবা অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা অর্জনে তদবিরের সংস্কৃতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠে এসেছে। যদি এসব ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও নীতিমালার পরিবর্তে ব্যক্তি বা সংগঠনের পরিচয় প্রাধান্য পায়, তাহলে কর্মদক্ষতা ও ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এতে সৎ, মেধাবী ও নিষ্ঠাবান শিক্ষকরা হতাশ হন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা কমে যায়।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ শিক্ষকরা। যারা নীরবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করেন এবং কোনো গ্রুপ-রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, তাঁরা অনেক সময় নিজেদের অসহায় মনে করেন। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন পরিবেশ কখনোই কাম্য হতে পারে না।

প্রশ্ন হচ্ছে, শিক্ষক সমাজের শক্তি কোথায়? তাঁদের শক্তি কোনো গ্রুপে নয়; তাঁদের শক্তি শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায়, পেশাগত সততায় এবং জ্ঞানচর্চায়। শিক্ষক যদি শিক্ষককে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেন, তাহলে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ কখনোই সুস্থ থাকতে পারে না। মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তা যেন কখনো বিভাজনের কারণ না হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত বিদ্যালয়ভিত্তিক কর্মপরিবেশ নিয়মিত মূল্যায়ন করা। শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত আছেন কি না, পাঠদান সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, কোনো শিক্ষক অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছেন কি না কিংবা প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় থাকছে কি না—এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে পেশাজীবী সংগঠনগুলোরও আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। সংগঠনের লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং সদস্যদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা। কোনোভাবেই বিভাজন সৃষ্টি, সহকর্মীদের মধ্যে বিরোধ বাড়ানো বা প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের সুযোগ রাখা উচিত নয়।

অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে রাজনীতি বা গ্রুপিং দেখতে চান না। তাঁরা চান, তাঁদের সন্তান যেন যোগ্য ও দায়িত্বশীল শিক্ষকের কাছে পাঠ গ্রহণ করে। রাষ্ট্রও শিক্ষকদের কাছ থেকে সেটিই প্রত্যাশা করে। তাই শ্রেণিকক্ষের চেয়ে কোনো সভা, কোনো গ্রুপ বা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বড় হতে পারে না।

আজ প্রয়োজন প্রাথমিক শিক্ষাঙ্গনে একটি নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা। শিক্ষক সমাজের মধ্যে বিভাজন নয়, ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা এবং সততাই হতে হবে মূল্যায়নের একমাত্র মানদণ্ড।

কারণ, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ কোনো গ্রুপের কাছে জিম্মি হতে পারে না। প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয় স্বার্থের বিষয়। সেই স্বার্থ রক্ষায় শিক্ষাঙ্গনকে সব ধরনের অস্বাস্থ্যকর গ্রুপিং, প্রভাবের রাজনীতি এবং অপ্রয়োজনীয় বিভাজন থেকে মুক্ত রাখার বিকল্প নেই।

লেখক: সাংবাদিক।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন