• সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
সিলেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত সিসিকের এলইডি স্ক্রিনে বিশ্বকাপ ফাইনাল: দর্শক উপস্থিতিতে উৎসবমুখর নগরভবন ‘এটিএম তুরাব স্মৃতি পদক’ পেলেন সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল কাদের তাপাদার মহীয়সীর আয়োজনে ‘হুমায়ূন আহমেদ স্মরণ সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠিত ডেমরার খাল পরিস্কার – পুনরুদ্ধার এখনই সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন লোহাগাড়ায় ভয়াবহ বন্যা-পরবর্তী মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সফর সফল ও সার্থকভাবে সম্পন্ন হয়েছে পদ্মা ওআড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এমপি শহিদুল বল্লী ইউনিয়নে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের করে দোকান ভাঙ্গচুরের অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ১ উদয়নমোড়-রেলস্টেশন গেট সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন

শরতের আগেই চলনবিলে লাল-সাদা শাপলার সমারোহ

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ১৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

মো. ইব্রাহিম আলী:

দেশের সর্ববৃহৎ বিল চলনবিল শুধু মৎস্য ও শস্যভান্ডার হিসেবেই পরিচিত নয়; বর্ষায় অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য লীলাভূমিতেও পরিণত হয় এটি। জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এই বিলের বিস্তীর্ণ জলরাশিজুড়ে প্রতি বছর শরৎকালে লাল-সাদা শাপলার মনোমুগ্ধকর সমারোহ দেখা যায়। তবে এবার ব্যতিক্রম। শরতের অপেক্ষা না করেই শ্রাবণের শুরুতেই বিলের বুকজুড়ে ফুটেছে লাল-সাদা শাপলা।

আগাম ফোটা এই শাপলাকে ঘিরে এখন চলনবিলজুড়ে উৎসবের আমেজ। একদিকে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন শাপলার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে, অন্যদিকে বিলপাড়ের শত শত কর্মহীন মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বনে পরিণত হয়েছে এই শাপলা।

বর্ষাকালে চলনবিল অঞ্চলের অনেক খেটে-খাওয়া মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েন। খেত-খামারে কাজ না থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাঁদের। তবে এবারের আগাম শাপলা যেন তাঁদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। প্রতিদিন ভোরে ডিঙি নৌকা নিয়ে বিলে গিয়ে কচি শাপলা সংগ্রহ করছেন তাঁরা। পরে আঁটি বেঁধে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। তরকারি হিসেবে শাপলার চাহিদা থাকায় ভালো দামও মিলছে।

সিংড়া উপজেলার সোহাগবাড়ী এলাকার বাসিন্দা সাদেক আলী (৪৫) বলেন, “বর্ষার এই সময়টায় আমাদের কোনো কাজ থাকে না। তাই শাপলা তুলে বিক্রি করি। কিন্তু এবার আল্লাহ আগেভাগেই বিলে শাপলা ফুটিয়েছেন। প্রতিদিন ভোরে নৌকা নিয়ে বের হই, দুপুর পর্যন্ত শাপলা তুলে আঁটি বেঁধে সিংড়া বাজারে বিক্রি করি। এতে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার বিক্রি হয়। এই দুর্যোগের দিনে শাপলা বিক্রি করেই এখন আমাদের সংসার চলে।”

শাপলা শুধু জীবিকার উৎসই নয়, স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের কাছেও এটি হয়ে উঠেছে আনন্দের উপলক্ষ। সিংড়া গোল-ই আফরোজ সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী আলী হাসান জানান, এইচএসসি পরীক্ষার কারণে বর্তমানে কলেজ বন্ধ রয়েছে। অবসর সময় কাজে লাগিয়ে তিন বন্ধু মিলে ডিঙি নৌকা নিয়ে বিলে শাপলা তুলতে গিয়েছিলেন। পরে তেঁতুলের টক দিয়ে শাপলা মেখে খাওয়ার আনন্দ ছিল অন্যরকম।

সব মিলিয়ে চলনবিলে এখন এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। একদিকে দৃষ্টিনন্দন লাল-সাদা শাপলার সমারোহ প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে, অন্যদিকে এই শাপলাই অভাবী মানুষের জীবিকার ভরসা হয়ে উঠেছে। বর্ষার অপরূপ সৌন্দর্য আর জীবনের কঠিন বাস্তবতার এমন মানবিক মেলবন্ধন চলনবিলকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন