প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্বে অবহেলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও সেবার মান নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষাপটে তিনি দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অডিটোরিয়ামে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো মূল্যে গ্রামের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ চিকিৎসাসেবা পায় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করা হয়। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালই সাধারণ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও সেবার মান নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলা বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
বৈঠকে গত পাঁচ মাসে স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং সেবার মানোন্নয়নে সরকারের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ সময় কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণেও বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, জেলা পর্যায়ের ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টারগুলো পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় ধাপে ধাপে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরি ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।
এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কার্যক্রম, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, জনবল নিয়োগ এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।