• বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
ইকোনমিক জোনের ভেতরেই চুরি, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশ্ন কাইচাইল ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন সৌদি প্রবাসী শফিকুল মাতুব্বর মান্নান-নিলুফার মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রয়াত নেতার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত নওগাঁর ধামইরহাটে জমি নিয়ে বিরোধ: সংঘর্ষ, চাঁদা দাবির অভিযোগ, উভয় পক্ষের থানায় এজাহার ত্রিশালে মাদক সেবনের দায়ে দুই যুবকের এক মাস করে কারাদণ্ড বাকেরগঞ্জে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ট্রাক্টরের পেছনে ছুটে চলা শৈশব পাঁচবিবিতে জুলাই আন্দোলনের শহীদ বিশাল সরকারের কবরে উপজেলা প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিবেদন জুলাই যোদ্ধা সংগঠনের ১০ দফা দাবি; কর্মসূচি শেষে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত যশোর জেলা সমন্বয়ক বাহুবলে বাস-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে ফল ব্যবসায়ী নিহত, আহত ২

ইকোনমিক জোনের ভেতরেই চুরি, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশ্ন

আল মামুন / ৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে গড়ে ওঠা কুমিল্লা ইকোনমিক জোনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে। মেঘনা উপজেলার লুটেরচরে অবস্থিত ইকোনমিক জোনের আওতাধীন মেঘনা গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ওয়্যারহাউজ থেকে প্রায় ১ দশমিক ৩ কেজি তামার তার চুরির ঘটনায় এক যুবককে হাতেনাতে আটক করা হলেও, ঘটনাটি শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট রাত ৮টার দিকে ওয়্যারহাউজের কাটিং সিঁড়ির নিচে সংরক্ষিত তামার তার নিয়ে বের হওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী অভিযুক্ত আবু সাইদকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে মেঘনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তামার তার জব্দ করে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় পেনাল কোডের ৩৮০/৪১১ ধারায় মামলা হয়েছে।তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সাধারণত একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রবেশ ও বহির্গমন নিয়ন্ত্রণ, সিসিটিভি নজরদারি এবং নিরাপত্তাকর্মীদের টহল থাকার কথা। এমন পরিস্থিতিতে ওয়্যারহাউজের ভেতর থেকে কীভাবে তামার তার সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো—এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, শিল্পাঞ্চলে তামা, লোহা ও অন্যান্য ধাতব সামগ্রী চুরির ঘটনা নতুন নয়। এসব চুরি অনেক সময় সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। ফলে এই ঘটনায় কেবল একজনকে গ্রেপ্তার করেই তদন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হলে প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে যেতে পারে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, পুলিশ বর্তমানে অভিযুক্তের পরিচয় যাচাই করছে। তিনি পটুয়াখালীর বাসিন্দা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানায় তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, সে বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পাঞ্চলে চুরি রোধে শুধু প্রহরী নিয়োগই যথেষ্ট নয়। নিয়মিত নিরাপত্তা অডিট, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং মূল্যবান মালামালের পৃথক সংরক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও অন্য কারও সম্পৃক্ততা থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের দাবি, শুধু মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত নয়, শিল্পাঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ঘটনার সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে কারা ছিলেন, সিসিটিভিতে কী ধরা পড়েছে এবং নিরাপত্তা প্রটোকলে কোনো গাফিলতি ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন