নগরায়ণ ও আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে উপকারী প্রাণী বেজি। ছবি:
বেজির বৈজ্ঞানিক নাম Herpestes auropunctatus। ইংরেজি নাম Small Indian Mongoose। এটি Carnivora বর্গের Herpestidae গোত্রের একটি ছোট মাংসাশী স্তন্যপায়ী ও শিকারি প্রাণী। লোমশ শরীরের এই প্রাণী দ্রুত ও নিঃশব্দে চলাফেরা করতে পারে।
বেজি অত্যন্ত দক্ষ শিকারি। এরা সাধারণত দিনের বেলায় খাবারের সন্ধানে বের হয় এবং রাতে নিজেদের তৈরি মাটির গর্তে বসবাস করে। শহর ও গ্রামে ঝোপঝাড়, জঙ্গল ও বিভিন্ন নিরিবিলি স্থানে এদের দেখা যায়।
বাংলাদেশে তিন প্রজাতির বেজির বসবাস রয়েছে—বড় বেজি, ছোট বেজি ও কাঁকড়াভুক বেজি। কাঁকড়াভুক বেজি বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। বড় বেজি দেশের পশ্চিমাঞ্চলে বেশি পাওয়া গেলেও মধ্যাঞ্চলেও এর দেখা মেলে। অন্যদিকে, ছোট বেজি দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই কমবেশি দেখা যায়।
বেজি ফসলের ক্ষেতের ছোট-বড় ইঁদুর, সাপ, মাছ, ব্যাঙ, পোকামাকড়, পাখি এমনকি পাখির ডিমও খায়। মাঝে মধ্যে হাঁস-মুরগির ছানা, কবুতরের বাচ্চা ও অন্যান্য ছোট প্রাণীও শিকার করে। এ কারণে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটি অংশ বেজিকে ক্ষতিকর প্রাণী হিসেবে মনে করে।
তবে পরিবেশ ও কৃষিতে বেজির উপকারিতা অনেক বেশি। হাঁস-মুরগি বা কবুতরের কয়েকটি ছানা শিকার করে যে ক্ষতি করে, তার তুলনায় ফসলের ক্ষতিকর ইঁদুর, পোকামাকড় ও বিভিন্ন প্রাণী খেয়ে বেজি কৃষকের অনেক বেশি উপকার করে। বিশেষ করে ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বেজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নগরায়ণ, নির্বিচারে ঝোপঝাড় ও গাছপালা কেটে ফেলা, আবাসস্থল ধ্বংস এবং মানুষের সচেতনতার অভাবে দিন দিন বেজির বিচরণক্ষেত্র কমে যাচ্ছে। ফলে একসময় গ্রামাঞ্চলে সহজেই দেখা যাওয়া এই উপকারী প্রাণীটি এখন অনেক এলাকায় বিরল হয়ে পড়ছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বেজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই বেজিকে অকারণে হত্যা না করে এর আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। কৃষি ও পরিবেশের জন্য উপকারী এই প্রাণীটি রক্ষায় স্থানীয়ভাবে ঝোপঝাড় ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার।