• বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

ছাত্র নেতা থেকে ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার প্রত্যাশা

নিজস্ব সংবাদ দাতা / ৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভাওরখোলা ইউনিয়নে তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক হতে চান জাকির মাহমুদ

মেঘনা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে সাংগঠনিক সাফল্য, এবার ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশা

মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি | বিন্দুবাংলা টিভি ডটকম

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় হামলা-মামলা, ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছেন মেঘনা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোঃ জাকির মাহমুদ। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা এবং তরুণদের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়ে এলাকায় নিজের একটি রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।

বর্তমানে বিএনপি সরকার গঠন করার পর দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় নিজ এলাকার উন্নয়নেও ভূমিকা রেখেছেন এবং ভবিষ্যতে উন্নয়ন করার প্রত্যাশা করছেন জাকির মাহমুদ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্বের মূলধারায় নিয়ে আসা, মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং ভাওরখোলা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার ভাওরখোলা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন এই তরুণ নেতা।

সম্প্রতি বিন্দুবাংলা টিভি ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক পথচলা, ছাত্রদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, এলাকার উন্নয়ন ভাবনা, তরুণদের নিয়ে পরিকল্পনা এবং নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন মোঃ জাকির মাহমুদ।

বিন্দুবাংলা টিভি ডটকম: ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে আপনার দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কেমন?

মোঃ জাকির মাহমুদ: দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সংগঠনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা, সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও তরুণদের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছি। দায়িত্বটি আমার কাছে শুধু একটি পদ নয়; এটি দলের প্রতি দায়িত্ব ও আমানত। আমি মনে করি, মেঘনা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে যে দায়িত্ব পেয়েছি, তা যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছি এবং এ ক্ষেত্রে সফলও হয়েছি।

বিন্দুবাংলা টিভি ডটকম: রাজনৈতিক জীবনে আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন কী?

মোঃ জাকির মাহমুদ: আমার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন হলো দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা। রাজনীতিতে অনেক প্রতিকূল সময় এসেছে। হামলা-মামলা ও নানা চাপের মধ্যেও দলের আদর্শ থেকে সরে যাইনি। দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি। আজ যারা আমাকে ভালোবাসেন, বিশ্বাস করেন এবং রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেন—এটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।

বিন্দুবাংলা টিভি ডটকম: আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ভাওরখোলা ইউনিয়নে প্রার্থী হতে চান কেন?

মোঃ জাকির মাহমুদ: দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে কাজ করছি। ইউনিয়নের মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো কাছ থেকে দেখেছি। আমার মনে হয়েছে, জনপ্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেলে মানুষের জন্য আরও ব্যাপকভাবে কাজ করা সম্ভব। তাই ভাওরখোলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছি। তবে সবকিছুর আগে দলের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিন্দুবাংলা টিভি ডটকম: বিএনপি সরকারে রয়েছে। এই সময়ে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার ভূমিকা কী হতে পারে?

মোঃ জাকির মাহমুদ: বিএনপি সরকার জনগণের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ইউনিয়ন পর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই একজন জনপ্রতিনিধির অন্যতম দায়িত্ব। আমি নির্বাচিত হলে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও উন্নয়ন প্রকল্প যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়, সেটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। উন্নয়ন হবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মানুষের প্রয়োজনের ভিত্তিতে।

বিন্দুবাংলা টিভি ডটকম: ভাওরখোলা ইউনিয়নের উন্নয়নে আপনার অগ্রাধিকার কী থাকবে?

মোঃ জাকির মাহমুদ: যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, কর্মসংস্থান ও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে চাই। পাশাপাশি ইউনিয়নের রাস্তা-ঘাট, পানি নিষ্কাশন, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমি মনে করি, উন্নয়ন শুধু বড় প্রকল্পের নাম নয়; একজন সাধারণ মানুষ তার দৈনন্দিন জীবনে কী সুবিধা পাচ্ছেন, সেটিই প্রকৃত উন্নয়নের মাপকাঠি।

বিন্দুবাংলা টিভি ডটকম: তরুণদের নিয়ে আপনার বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে?

মোঃ জাকির মাহমুদ: অবশ্যই। আমি নিজেও তরুণ প্রজন্মের একজন প্রতিনিধি। তরুণদের বাদ দিয়ে উন্নত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। তাদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা, শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। তরুণদের নেতৃত্বের সুযোগ দিতে হবে। আমি চাই ভাওরখোলার প্রতিটি তরুণ নিজের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত হোক এবং দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখুক।

বিন্দুবাংলা টিভি ডটকম: জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিস্তারে আপনার ভূমিকা কী হবে?

মোঃ জাকির মাহমুদ: জাতীয়তাবাদী রাজনীতির মূল শক্তি হচ্ছে জনগণ। তরুণ প্রজন্মের কাছে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ইতিহাস, দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার সম্পর্কে সঠিক ধারণা পৌঁছে দিতে হবে। রাজনীতিকে সংঘাতের পরিবর্তে জনকল্যাণের পথে নিয়ে যেতে হবে। মানুষের পাশে থেকে মানুষের আস্থা অর্জন করাই হবে আমার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম লক্ষ্য।

বিন্দুবাংলা টিভি ডটকম: দলের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে কতটা আশাবাদী?

মোঃ জাকির মাহমুদ: আমি আশাবাদী। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ত্যাগ-সংগ্রাম, সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং মানুষের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা দল মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি। বিশেষ করে মেঘনা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা আমাকে সাংগঠনিকভাবে আরও পরিণত করেছে। দল যদি মনে করে আমি ভাওরখোলা ইউনিয়নের মানুষের জন্য কাজ করার যোগ্য, তাহলে অবশ্যই মনোনয়ন পাবো।

বিন্দুবাংলা টিভি ডটকম: মনোনয়ন না পেলে কী করবেন?

মোঃ জাকির মাহমুদ: দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বিএনপির রাজনীতি করি পদ বা নির্বাচনের জন্য নয়, আদর্শ ও মানুষের জন্য। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই কাজ করব।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন