ঢাকা   ০৩:৫৭:১৬ এএম, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দর্শকের দেওয়া ১০ টি টাকা মায়ের হাতে তুলেদিয়ে নামকরা খেলোয়াড় হতে দোয়া চেয়েছিল সাইফ।

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, May 12, 2019,
  • 282 Time View
১২ মে ২০১৯  বিন্দুবাংলা টিভি. কম,   সৈয়দ কামাল,ফেনী থেকেঃবাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে খেলবেন নতুন অভিষেক হওয়া নবীন অলরাউন্ডার ফেনীর ছেলে সাইফ।নিজ গ্রাম পূর্ব শিবপুর বটতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন কালীন একদিন বিদ্যালয় মাঠে টেনিস বলে বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলছিল সাইফ।ওই দিন শিশু সাইফের ক্রিকেট খেলা নজর কেড়েছিল কোন এক দর্শকের।খেলা শেষে যখন শিশু সাইফ বাড়ী যাচ্ছিল,তখন ওই দর্শক ক্ষুদে ক্রিকেটার সাইফকে কাছে ডেকে এনে কোলেতুলে আদর করে তার হাতে ১০ টাকার একটি নোট দিয়ে বলেছিল, বাবা মাঠে তোমার খেলা দেখে আমি মুগ্ধ তাই ভালো খেলার পুরুষ্কার হিসেবে আমি তোমাকে এই টাকা টা দিলাম।শিশু সাইফ বাড়ী গিয়ে দর্শকের দেওয়া সেই ১০ টাকার নোট টা মায়ের হাতে দিয়ে বলেছিল,মা তুমি আমার জন্য দোয়া কর আমি বড় হয়ে যেন,একজন নামকরা খেলোয়াড় হতে পারি।
সেইদিন মায়ের হাতে দর্শকের দেওয়া ১০ টাকার নোট টি দিয়ে নামকরা একজন ক্রিকেটার হতে দোয়া চাওয়া, সেই ক্ষুদে ক্রিকেটার সাইফ মায়ে দোয়ায় সত্যিই আজ দেশ জুড়ে নামকরা একজন অলরাউন্ডার ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
ক্রিকেটার সাইফের বর্তমান পারিবারিক অবস্থানঃ ক্রিকেটার সাইফ উদ্দিন ফেনী জেলার ফেনী সদর উপজেলাধীন,ফাজিলপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।পিতা পুলিশ কনষ্টেবল আবদুল খালেক ও মাতা জোহরা বেগমের সংসারে জন্ম নেওয়া তিন ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে ফেনী জেলার গর্ব ক্রিকেটার সাইফ উদ্দিনের অবস্থান তৃতীয়।সাইফের দুই বোনের মধ্যে বড়বোন আসমা আক্তার ও ছোটবোন দিল আফরোজ উভয় বোনই বিবাহিত।তার বড়ভাই কফিল উদ্দিন,ছোটভাই আজাহার উদ্দিন তার মা জোহরা বেগম ও সে বর্তমানে ফেনী শহরের উকিল পাড়ায় পাঁচ তলা ভবনের একটি প্লাটে বসবাস করেন।পিতা আবদুল খালেক ২০০৮ সালে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মারাযায়।বড় ও ছোট দুইভাই এখনো পড়াশোনা করছেন।
সাইফের পড়াশোনাঃসাইফের প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরুহয় নিজ গ্রামের বটতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে।প্রাথমিক শিক্ষা শেষে সাইফ ছাগলনাইয়া উপজেলাধীন করৈয়া বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হলে ও পরে ফেনী শাহীন একাডেমী স্কুলে ভর্তি হয়।
ক্রিকেট খেলায় আগমনঃবাল্যকাল থেকেই খেলার জন্য পাগল ছিল সাইফ।গ্রামে থাকাকালীন কিশোর বয়সে সাইফ ক্রিকেট ও ফুটবল এই দুটি খেলাই খেলতো সমান তালে।সাইফের মা জোহরা বেগম বাসাভাড়া নিয়ে ফেনী শহরে উঠার পর ক্রিকেটকেই নিজের প্রিয় খেলা হিসেবে বেচেনেন সাইফ।২০০৫ সালে ফেনীর ফ্রেন্ডশিপ ক্রিকেট ক্লাবে যোগদানের মাধ্যমেই ক্রিকেট খেলায় তার অভিষেক।মায়ের দোয়ায় নামকরা একজন ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিতি অর্জনে এর পর থেকে আর কোথাও থামতে হয়নি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নবীন অলরাউন্ডার সাইফ উদ্দিন কে।২০০৯ সালে খেলেন অনুর্ধ ১৪ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট,এরপর অনুর্ধ ১৯ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট,এই টুর্নামেন্টে খেলাটাই ছিলো সাইফের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট।তারপর যুব বিশ্বকাপে খেলা,বর্তমানে দেশের হয়ে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় রয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলে অভিষেক হতে যাওয়া ফেনী জেলার কৃতি সন্তান নবীন এই অলরাউন্ডার সাইফ উদ্দিন।দেশবাসীর পাশাপাশি ফেনী জেলা বাসীর অধীক প্রত্যাশা, এবারের ২০১৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভালো খেলে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে আমাদের সাইফ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি