ঢাকা   ০৩:১১:২০ পিএম, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনা যেন কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে: রাষ্ট্রপতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না: মীর শাহে আলম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে একমত বিশ্বব্যাংক : অর্থমন্ত্রী সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের প্রস্তাব উঠবে আগামী মন্ত্রিসভায়: গণপূর্তমন্ত্রী রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৮ জনের কারাদণ্ড নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তা, ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা খন্দকার মোশাররফের সঙ্গে আবুল হাশেমের সাংগঠনিক আলোচনা মেঘনায় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত ওমানের সঙ্গে সিইপিএ চুক্তির উদ্যোগ বাংলাদেশের: বাণিজ্যমন্ত্রী হঠাৎ একা হয়ে গেলে ভয় পেয়ো না : পূজা

অভিযোগহীন অপরাধ: প্রশাসন জানে, তবুও নীরব কেন?

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, July 8, 2025,
  • 532 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

মেঘনায় এখন এমন এক বাস্তবতা গড়ে উঠেছে, যেখানে অপরাধ হয় প্রকাশ্যে, কিন্তু কেউ মুখ খুলে না। কারণ কেউ জানে—‘বললে বিপদ হবে’, আর কিছু বললেই শুনতে হবে: দলীয় ষড়যন্ত্র, ব্যক্তিগত আক্রোশ বা রাষ্ট্রদ্রোহের তকমা।’ প্রশাসনও এসব দেখে না দেখার ভান করে, হয়তো কেউ চাপে, কেউ আপসে।

অভিযোগ নেই মানেই অপরাধ নেই?

প্রশাসন বা রাজনৈতিক মহল অনেক সময় দাবি করে—“কোনো লিখিত অভিযোগ নেই।” কিন্তু বাস্তবতা বলছে, মানুষ আর অভিযোগ করতে সাহস পায় না।

কেন অভিযোগ করে না মানুষ?

থানায় গেলে আগে পরিচয় জিজ্ঞেস করা হয়—“আপনি কার লোক?”

অভিযোগ দিলেও কার্যকর তদন্ত হয় না

পরে হুমকি আসে—“মামলা তুলে নাও, না হলে বিপদ”

স্থানীয় নেতারা চাপ দেন—“বাইরের লোক ডাকলে কিন্তু খারাপ হবে”

 

খোলা চোখে দেখা যায় না প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

কী কী অপরাধ চলছে খোলামেলা?

চাঁদাবাজি (নির্মাণ, বাজার, ইজারা)

মাদক ব্যবসা (ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা)

নদীপথে ভারতীয় পণ্যের চোরাচালান

সরকারি সেবা নিতে ঘুষ

জমি দখল ও দলীয় ক্যাডার দ্বারা জবরদখল

নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ধামাচাপা দেওয়া

 

একজন ভুক্তভোগী বলেন—

> “আমার বোনকে নির্যাতন করেছিল এক চেয়ারম্যান ঘনিষ্ঠ লোক। থানায় অভিযোগ দিতে বললে সবাই বলল—‘বাঁচতে চাও তো চুপ থাকো’। আমি চুপই থাকলাম।”

 

নিয়ন্ত্রণে কে? ‘অদৃশ্য’ এক প্রভাবশালী চক্র

প্রতিটি অপরাধের পেছনে কোনো না কোনো রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় আছে বলেই স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন। অনেকে নাম বলতে চান না, কারণ তারা জানেন, কেউ কথা বললেই—

রাতের অন্ধকারে ভয় দেখানো হয়

মামলা দিয়ে হয়রানি

দলবিরোধী, সরকারবিরোধী, এমনকি রাষ্ট্রবিরোধী ঘোষণা

একটি বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলেন:

> “আমরা জানি কারা টাকা তোলে, কে ভাগ পায়। কিন্তু প্রশাসনের সামনে বলি না, কারণ তারা জানে, তারাও জড়িত।”

 

নেতাদের ভিড়ে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত

অনেক দপ্তরে অভিযোগ রয়েছে—রাজনৈতিক নেতাদের অবাধ যাতায়াত, হস্তক্ষেপ ও প্রভাবশালীদের ‘চাওয়া-পাওয়া’র কারণে সাধারণ মানুষ প্রশাসনের দোরগোড়ায় যেতে ভয় পায়।

দলীয় পরিচয়ে অগ্রাধিকার সেবা, সাধারণ মানুষ সেবা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। কারণ বিশিষ্ট জনদের সৌজন্যবোধে বিব্রত প্রশাসন দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষায় বিরক্ত সাধারণ মানুষ।

সার্বিক চিত্র: আইন আছে, প্রয়োগ নেই

বিষয় বাস্তবতা

পুলিশ শুধু রুটিন টহল, বড় অভিযান নেই
প্রশাসন আপস ও চাপের ভারে নীরব
মানুষ ভয়ে নীরব, অভিযোগ করে না
রাজনীতি সবকিছু ‘কন্ট্রোল’ করে রাখার চেষ্টা

 

সমাধানের পথ কোথায়?

* অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে
* তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
*প্রশাসনের উপর রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে হবে
*জনগণের মাঝে আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে
*স্বতন্ত্র তদন্ত টাস্কফোর্স গঠনের দাবি উঠতে পারে

চুপ থাকা মানে দায় এড়ানো নয়

যখন প্রশাসন চোখ বন্ধ করে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব অপরাধ ঢাকে, আর সাধারণ মানুষ চুপ থাকে—তখন একটি জনপদ অপরাধের অভয়ারণ্য হয়ে ওঠে। মেঘনার এই বাস্তবতা যদি এখনই বদলানো না যায়, তবে আগামীতে তা জাতীয় সংকটে পরিণত হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি