নিজস্ব প্রতিবেদক।।
আসন পুনর্বিন্যাসের খসড়া গেজেট ঘিরে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় যখন রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত, সেই সুযোগে পুরনো মাদক ও চোরাচালান সিন্ডিকেট নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক আলোচনার আড়ালে উপজেলার নদীপথ ও স্থলপথে প্রতিদিন দেদারসে প্রবাহিত হচ্ছে ফেনসিডিল, ইয়াবা, বিদেশি মদসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক এবং চোরাচালানী পণ্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে মেঘনাকে ‘ট্রানজিট হাব’ হিসেবে ব্যবহার করছে। কুমিল্লার ভৌগোলিক অবস্থান, পার্শ্ববর্তী দেশের একাধিক সীমান্ত এবং মেঘনা ও কাঠালিয়া নদীএ সবই চোরাচালানিদের জন্য বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।নদীপথে নৌকা ও ট্রলারের ছদ্মবেশে, আর স্থলপথে পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী পরিবহনের ভেতরে বিশেষ চেম্বারে মাদক পরিবহন করা হয়। কখনও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক কর্মীদের ছত্রছায়ায়, আবার কখনও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে নিরাপদে পণ্য পার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “যারা মাদক ব্যবসা করে তারাই আবার প্রকাশ্যে মাদকবিরোধী স্লোগান দেয়। এভাবে প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে ব্যবসা চালায়।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সচেতন মহল মনে করেন, সামনে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। তাই এখন থেকেই প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।