ঢাকা   ১০:২৩:০৭ পিএম, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেঘনা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদ: অনুমোদন আছে, কার্যকারিতা নেই

বিপ্লব সিকদার
  • Update Time : Monday, January 12, 2026,
  • 497 Time View
  • ৫ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে অনুমোদন পেলেও মেঘনা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদ এখনো কার্যত অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান অভ্যন্তরীণ কোন্দল, আসন বিন্যাসকে কেন্দ্র করে বিরোধ এবং তীব্র গ্রুপিংয়ের কারণে আলোচনার বাইরে রয়ে গেছে সদ্য অনুমোদিত এই উপদেষ্টা পরিষদ।
গত বছরের ৮ জুলাই কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান সরকার ও সদস্য সচিব এ এফ এম তারেক মুন্সির যৌথ স্বাক্ষরে  আব্বাসউদ্দীন আহমেদ মাস্টারকে প্রধান উপদেষ্টা করে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট মেঘনা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদ অনুমোদন দেওয়া হয়। জেলা নেতৃত্বের দাবি, বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উপজেলায় উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের যে বিধান রয়েছে, তার আলোকে এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কমিটি অনুমোদনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও উপদেষ্টা পরিষদের কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই। দলীয় সূত্র জানায়, মেঘনা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান একাধিক গ্রুপের দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের আধিপত্য বিস্তার এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থী ও আসন বণ্টন ইস্যু এই স্থবিরতার মূল কারণ।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উপদেষ্টা পরিষদ কারা নিয়ন্ত্রণ করবে—এই প্রশ্নেই শুরু হয়েছে নতুন টানাপোড়েন। কেউ কেউ মনে করছেন, এই পরিষদকে ব্যবহার করে একটি পক্ষ নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চায়। আবার আরেকটি পক্ষ শুরু থেকেই এই কমিটির বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে আপত্তি তুলে আসছে।
অন্যদিকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলীয় অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনে উপদেষ্টা পরিষদ যে ভূমিকা রাখার কথা ছিল, তা তারা রাখতে পারছে না। বরং কমিটি অনুমোদনের পর গ্রুপিং আরও প্রকাশ্য হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও কর্মসূচিতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেঘনা উপজেলা বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ সংকট শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বিভক্তি দলটির জন্য বড় ধরনের সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। দ্রুত কার্যকর সমাধান না এলে উপদেষ্টা পরিষদ নামেই থেকে যাবে, বাস্তবে দলীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে না।
এ বিষয়ে জেলা ও উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা প্রকাশ্যে কথা বলতে অনাগ্রহী হলেও ভেতরে ভেতরে অসন্তোষ যে বাড়ছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ফলে প্রশ্ন থেকেই যায়—গঠনতন্ত্র মেনে অনুমোদন পাওয়া মেঘনা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদ কি আদৌ তার কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে পারবে, নাকি এটি কাগুজে কমিটিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি