ঢাকা   ০২:১৪:৪৯ পিএম, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেঘনায় মাদকবিরোধী শ্লোগানের আড়ালে সক্রিয় নেটওয়ার্ক

বিপ্লব সিকদার
  • Update Time : Monday, January 19, 2026,
  • 473 Time View

মেঘনা উপজেলায় মাদক এখন আর গোপন কোনো অপরাধ নয়; এটি প্রকাশ্য নীরবতার ভেতর বেড়ে ওঠা একটি সংগঠিত ব্যবস্থা। প্রকাশ্যে সভা, ব্যানার ও শ্লোগানের মাধ্যমে মাদকবিরোধী অবস্থান জানানো হলেও, অনুসন্ধানে দেখা গেছে এসব কার্যক্রমের আড়ালেই সক্রিয় রয়েছে একাধিক সমন্বিত গোষ্ঠী, যাদের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে চলমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকা দিনের আলোতে স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যার পর সেখানে বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ে। এই সময়গুলোতে মাদক কেনাবেচা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে এসব এলাকায় নিয়মিত নজরদারির ঘাটতি স্পষ্ট, যা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি করেছে।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িত কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যুক্ত। তারা সময়ভেদে ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকায় হাজির হয়—কখনো বক্তা, কখনো সংগঠক, আবার কখনো নীরব দর্শক। ফলে অভিযোগ করলেও তা এগোয় না বলে স্থানীয়দের অভিমত।
একাধিক বাসিন্দা জানান, এখানে সবাই সবাইকে চেনে। কে কোথায় জড়িত, সেটি অজানা নয়। তবুও কেউ প্রকাশ্যে কথা বলেন না। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সামাজিক চাপ, হুমকি এবং হয়রানির আশঙ্কা। এই নীরবতাই মাদক ব্যবসার জন্য সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত এক বছরে উপজেলায় একাধিক মাদকবিরোধী কর্মসূচি হলেও বড় কোনো সরবরাহকারী বা নেটওয়ার্ক ভাঙার তথ্য পাওয়া যায়নি। ছোটখাটো ধরপাকড় হলেও মূল নিয়ন্ত্রকেরা থেকে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এতে করে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।অনুসন্ধান বলছে, মেঘনায় মাদক সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার নয়; এটি প্রভাব, সমঝোতা ও সুবিধাবাদের একটি চক্র। যতদিন এই চক্র ভাঙা না যাবে, ততদিন সভা আর শ্লোগান চলবে—কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসবে না।মেঘনায় মাদকবিরোধী লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় বাধা –  মাদক নয়, বরং সেই নীরব সম্মতি—যেখানে সবাই জানে, কিন্তু কেউ সামনে আসতে চায় না।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি