ঢাকা   ০৯:১৫:৩৪ পিএম, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেঘনায় বিএনপির দুর্গ ভাঙতে নীরব কৌশলে জামায়াত

বিপ্লব সিকদার
  • Update Time : Wednesday, February 4, 2026,
  • 408 Time View
  • ৬ মিনিট পড়ার সময়
  • ফন্ট:

মেঘনা উপজেলার নির্বাচনী রাজনীতিতে দৃশ্যত শান্ত পরিবেশ বিরাজ করলেও ভেতরে ভেতরে চলছে জটিল সমীকরণের লড়াই। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ভোটের মাঠে এক ধরনের উদ্ভট পরিস্থিতি  তৈরি হয়েছে, যার সুযোগ নিতে মরিয়া বিভিন্ন পক্ষ। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী একটি অংশ নীরবে স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার পথে হাঁটলেও ত্যাগী ও মাঠকর্মী পর্যায়ের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।সূত্র জানায় কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান জামায়াতের সাথে আঁতাত করেছে।  এতে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিএনপি রয়েছে শক্ত ও সুবিধাজনক অবস্থানে। দীর্ঘদিনের সংগঠনিক ভিত্তি ও গণজোয়ারের কারণে মেঘনায় বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক ব্যবধানে জয় আসতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তবে এই বিএনপি-প্রধান এলাকায় আঘাত হানতে ভিন্ন কৌশল নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। প্রকাশ্য বড় শোডাউনের বদলে জামায়াতের সাংগঠনিক নেতারা পথসভা করছেন, আর নীরবে নিভৃতে ভোট চাইছেন নারী কর্মী ও অপেক্ষাকৃত আড়ালে থাকা সিনিয়র নেতারা। এই কৌশলের লক্ষ্য বিএনপির কিছু ভোট নিজেদের অনুকূলে নেওয়া  এবং নিজের অস্তিত্ব জানান দেওয়া।জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জামায়াতের অনুপ্রবেশকারী রয়েছে যা কার্যত শ্লোগান এবং ফান্ডিং, নতজানু হয়ে সিনিয়র নেতাদের সাথে আঠার মত লেগে থেকে  বিএনপিকে ঘুমিয়ে রাখা হয়েছে এবং কৌশলে দলে বিশৃঙ্খলা ও ভোটের রাজনীতিতে জামায়াতকে সুবিধা জনক অবস্থা তৈরি করে দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।
তবে জামায়াতের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চরমোনাইপন্থীদের প্রভাব। একই ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় জামায়াত এখানে প্রত্যাশিত সাড়া পাচ্ছে না বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন, আবার অনেকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা হিসেবে দাবীদার যাদের হাইকমান্ডের সাথে গভীর সম্পর্ক থাকলেও জনগণের কাছে তেমন গ্রহণ যোগ্যতা নেই। তারাই নিজেদেরকে একক আধিপত্যবাদ মনোভাব দেখাচ্ছেন মাঝারি নেতাদের অবমূল্যায়ন করার ফলে কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ রয়েছে। যদিও প্রকাশ করছেন না দলীয় স্বার্থে। সব প্রার্থী এখনো পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ প্রচারণা চালালেও স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে, এই আপাত শান্ত পরিবেশ ভোটের দিন অশান্ত রূপ নিতে পারে এমন গুজব ছড়ানো হচ্ছে অতি গোপনে আওয়ামী নেটওয়ার্ক।  আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তৎপরতায় থাকলেও রাজনৈতিক পালাবদলের এই সূক্ষ্ম লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে ভোটার উপস্থিতি ও শেষ মুহূর্তের সমীকরণের ওপর। মেঘনার নির্বাচনী মাঠ তাই এখন নীরব উত্তেজনায় টানটান হলেও স্থানীয় বিএনপি নির্ভার।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি