• সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সর্বশেষ
প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা দিতে দায়িত্বে অবহেলায় শাস্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর তিতাসে প্রশাসনে নেতৃত্বের শূন্যতা, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের বিকল্প নেই: নবজীবনের প্রকাশক-সম্পাদক নুরুন্নাহার স্থানীয় নির্বাচনেও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী করতে চায় না ইসি নয়াদিল্লিতে মিনিস্টার (প্রেস) পদে নিয়োগ পেলেন সাইদুর রহমান সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে বিজিবিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টক্সিক মানসিকতার বিস্তার: সামাজিক সম্প্রীতির নীরব সংকট সিলেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

মেঘনায় সাবরেজিস্ট্রি অফিসে স্থায়ী ভবন জরুরি এখন

বিপ্লব সিকদার / ৬২৯ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার সাবরেজিস্ট্রি অফিস দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী ও অনিরাপদ পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, যা জনসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভূমি রেজিস্ট্রেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা—যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জমি ক্রয়-বিক্রয়, হেবা, দানপত্রসহ বিভিন্ন আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আসেন। অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ অফিসটির নিজস্ব, নিরাপদ ও স্থায়ী কোনো অবকাঠামো নেই—এটি নিঃসন্দেহে প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং পরিকল্পনার ঘাটতির প্রতিফলন।মাতাবেরকান্দি এলাকায় অস্থায়ীভাবে পরিচালিত অফিসটি শুরু থেকেই নানা সমস্যায় জর্জরিত। জনাকীর্ণতা, পর্যাপ্ত স্থান সংকট, এমনকি সাপের আতঙ্ক পর্যন্ত এখানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের জন্য স্থায়ী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাবরেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্টরা সেখানে নিয়মিত বসতে অনীহা প্রকাশ করাটা অস্বাভাবিক নয়। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে, যা সরাসরি জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।বর্তমানে উপজেলা সংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন ভবনে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও সেটিও কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। ভবনটি অসম্পূর্ণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও দুর্বল—ফলে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র সংরক্ষণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। যেহেতু এটি প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত, তাই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকেই যায়। ইতোমধ্যে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার মাধ্যমে সেই আশঙ্কা বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করছে।একটি সাবরেজিস্ট্রি অফিস শুধু একটি দাপ্তরিক ভবন নয়—এটি মানুষের সম্পদের আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কেন্দ্র। এখানে সংরক্ষিত দলিলপত্র বহু মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের প্রমাণ। তাই এই অফিসের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত মান কোনোভাবেই অবহেলার সুযোগ নেই। অস্থায়ী কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করা শুধু দায়িত্বহীনতাই নয়, বরং এটি নাগরিক অধিকারের সাথেও সাংঘর্ষিক।
এছাড়া, সেবার মান উন্নয়নের জন্য একটি আধুনিক, সুপরিকল্পিত ও নিজস্ব জমিতে নির্মিত স্থায়ী কার্যালয় অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত জায়গা, ডিজিটাল সেবা সুবিধা, নিরাপদ রেকর্ড সংরক্ষণাগার, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা অপেক্ষা কক্ষ—এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে জনগণ দ্রুত ও নির্বিঘ্নে সেবা পাবে। বর্তমানে যেসব সমস্যার কারণে মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে, তা অনেকাংশেই কমে যাবে।এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে হলে মৌলিক প্রশাসনিক অবকাঠামোগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মেঘনার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় এখনো সাবরেজিস্ট্রি অফিসের স্থায়ী ভবন না থাকা দুঃখজনক। দ্রুত বাজেট বরাদ্দ, জায়গা নির্ধারণ এবং নির্মাণ কাজ শুরু করা এখন সময়ের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন