ঢাকা   ০১:১৭:২১ পিএম, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেঘনার সড়কে অপরিকল্পিত স্পীড ব্রেকারে ঘটছে দূর্ঘটনা খুঁজতে হবে সমাধান

বিপ্লব সিকদার
  • Update Time : Wednesday, April 8, 2026,
  • 641 Time View

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলো এখন এক অদৃশ্য বিপদের নাম অপরিকল্পিত স্পীড ব্রেকার। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে এসব স্পীড ব্রেকারই অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও প্রয়োজন ছাড়াই একের পর এক স্পীড ব্রেকার, আবার কোথাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কোনো ব্যবস্থা নেই এমন বৈপরীত্যই এখন মেঘনার সড়ক ব্যবস্থাপনার চিত্র।বাংলাদেশে সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনুমোদনহীন ও অপরিকল্পিত স্পীড ব্রেকার সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে । অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা এলাকাবাসীর চাহিদায় এসব ব্রেকার তৈরি হয়, যা কোনো প্রকৌশল নীতিমালা অনুসরণ করে না। ফলস্বরূপ, এগুলো যানবাহনের ভারসাম্য নষ্ট করে, হঠাৎ ব্রেক করতে বাধ্য করে এবং বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।মেঘনায়ও একই চিত্র। গ্রামীণ সড়কের পাশে দোকান বা বসতবাড়ি থাকলেই সেখানে স্পীড ব্রেকার বসানো হয়েছে, অথচ স্কুল-কলেজের সামনে নেই কোনো নিয়ন্ত্রিত গতি ব্যবস্থা। অথচ আন্তর্জাতিক সড়ক নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পরিকল্পিতভাবে স্পীড ব্রেকার স্থাপন করা জরুরি । এই বাস্তবতা উপেক্ষা করার ফলেই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
আরও ভয়াবহ বিষয় হলো অধিকাংশ স্পীড ব্রেকারে নেই কোনো রঙ, সাইনবোর্ড বা সতর্কীকরণ চিহ্ন। ফলে রাতে বা দূর থেকে চালকরা তা বুঝতে পারেন না। চিহ্নবিহীন স্পীড ব্রেকার দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ । এমনকি নতুন স্থাপিত স্পীড ব্রেকারের কারণে একদিনেই একাধিক দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে ।

সঠিক নিয়ম অনুযায়ী স্পীড ব্রেকার বসানোর জন্য নির্দিষ্ট উচ্চতা, প্রস্থ, দূরত্ব এবং দৃশ্যমানতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি এগুলো এমন জায়গায় বসাতে হবে, যেখানে চালক আগে থেকেই দেখতে পারেন এবং নিরাপদে গতি কমাতে পারেন । কিন্তু মেঘনায় এসব নীতিমালার কোনো প্রতিফলন নেই।

এ অবস্থার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এলজিইডি । ফলে একদিকে জনগণ নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রেকার তৈরি করছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় স্থানে সরকারিভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।সমাধান একটাই তাৎক্ষণিক জরিপ ও পুনর্বিন্যাস। যেখানে প্রয়োজন নেই, সেখানে স্পীড ব্রেকার অপসারণ করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বৈজ্ঞানিকভাবে নতুন স্পীড ব্রেকার স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ব্রেকারে দৃশ্যমান রঙ, সাইনবোর্ড ও রাতের প্রতিফলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
ডেভলপ ও কারিগরী সহায়তায় লোকালহোস্ট আইটি