• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

শিশু-কিশোরদের গড়াই জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ

বিপ্লব সিকদার / ৫৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

শিশু ও কিশোররাই একটি জাতির ভবিষ্যৎ। আজকের এই কোমলমতি প্রজন্মই আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী এবং সমাজের চালিকাশক্তি। তাই তাদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা শুধু পরিবারের নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি দায়িত্বশীল মানুষের কর্তব্য। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের চেতনা এবং শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দিকনির্দেশনা আমাদের শেখায় স্বনির্ভর, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ার বিকল্প নেই।বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের সামনে যেমন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত, তেমনি নানা চ্যালেঞ্জও বিদ্যমান। প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে তারা দ্রুত তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ পাচ্ছে, কিন্তু একই সঙ্গে বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মাদক, সহিংসতা, নৈতিক অবক্ষয় এসব বিষয় তাদের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাই এখনই প্রয়োজন সুপরিকল্পিত উদ্যোগ এবং সমন্বিত দায়িত্ববোধ।একটি শিশুর প্রথম শিক্ষালয় তার পরিবার। পরিবার থেকেই সে শিখে মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম। অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের প্রতি যত্নশীল হওয়া, তাদের সময় দেওয়া এবং সঠিক পথে পরিচালিত করা। শুধুমাত্র আর্থিক সচ্ছলতা নয়, নৈতিক শিক্ষাও একটি শিশুর জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মায়ের অবহেলা বা অমনোযোগিতা অনেক সময় শিশুকে বিপথে ঠেলে দেয়।এরপর আসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। একটি আদর্শ শিক্ষা ব্যবস্থাই পারে শিশু-কিশোরদের সুস্থভাবে বিকশিত করতে। শিক্ষকদের শুধু পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মানবিকতা শেখানোর দায়িত্বও নিতে হবে। শিক্ষা যেন কেবল পরীক্ষাভিত্তিক না হয়ে জীবনমুখী হয়, সেই দিকে জোর দিতে হবে। পাঠ্যক্রমে দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, এবং জাতীয়তাবাদী চেতনা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।সমাজের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের প্রতিটি অংশিজন রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি সবাইকে শিশু ও কিশোরদের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। সমাজে যদি ইতিবাচক পরিবেশ না থাকে, তবে একটি শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অপরাধমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক এবং সহানুভূতিশীল সমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। সরকারকে শিশু-কিশোরদের অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এই তিনটি মৌলিক খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো শিশু যেন দারিদ্র্যের কারণে শিক্ষাবঞ্চিত না হয়, কোনো কিশোর যেন অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে এটা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করা গেলে তারা সুস্থ বিনোদন পাবে এবং নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে।শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দর্শন ছিল একটি আত্মনির্ভরশীল, শক্তিশালী ও দেশপ্রেমিক জাতি গঠন করা। তিনি সবসময় তরুণ প্রজন্মকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তাদের শক্তিকে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের শিশু-কিশোরদের সঠিক পথে পরিচালিত করা হলে আগামী বাংলাদেশ হবে আরও উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি শিশুও যেন তার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। শিশুশ্রম, নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, মাদকাসক্তি এসব সমস্যা এখনও আমাদের সমাজে বিদ্যমান। এগুলো দূর করতে হলে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। শিশু-কিশোরদের গড়ে তোলা একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র এই তিনটির সমন্বিত প্রচেষ্টাই পারে একটি সুস্থ, সচেতন ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম তৈরি করতে। আজ আমরা যদি তাদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারি, তবে আগামী বাংলাদেশ হবে একটি আলোকিত, উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্র যেখানে প্রতিটি নাগরিক গর্বের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।

লেখক – সাংবাদিক, সহ গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক, জিয়া শিশু কিশোর মেলা। 


আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য বন্ধ আছে।

এই জাতীয় আরো খবর দেখুন